নবদ্বীপেরই বাসিন্দা শুভঙ্কর হালদার দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র আন্দোলন ও বিভিন্ন গণআন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। নবদ্বীপ বকুলতলা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে নবদ্বীপ বিদ্যাসাগর কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতিতে অংশ নেন। পরবর্তীকালে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন এবং বর্তমানে শম্ভুনগর প্রাইমারি স্কুলে কর্মরত।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে একসময় বিজেপির ঘনিষ্ঠ হলেও পরে সেই দল থেকে সরে আসেন তিনি। তার বক্তব্য, “বিজেপি কখনওই তৃণমূলের প্রকৃত বিকল্প হতে পারে না।” বরং তিনি মনে করেন, বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কোনও বড় দলই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না।
advertisement
আরও পড়ুনঃ ‘ও শুধু সহশিল্পী নয়……..’ রাহুলকে মনে করে গৌরবের আবেগঘন বার্তা
এই নির্বাচনে শুভঙ্কর হালদারের প্রচারের ধরন একেবারেই আলাদা। প্রতিদিন সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে এবং স্কুল শেষে বিকেল ও সন্ধ্যায় তিনি নিজেই দু’চাকা বাহনে করে বিভিন্ন পাড়া, দোকান ও বাড়িতে গিয়ে লিফলেট বিলি করছেন। নবদ্বীপের কলাতলা মোড়-সহ বিভিন্ন এলাকায় তাকে একাই মানুষের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। তার সঙ্গে নেই কোনও কর্মী, নেই কোনও দলীয় রং বা প্রতীক—শুধু নিজের বার্তা আর বিশ্বাস।
তিনি বলেন, “আমার কাছে কোনও বড় দল নেই, নেই প্রচুর অর্থ। সম্পূর্ণ শূন্য হাতে আমি মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। মানুষ যদি মনে করে আমি এই ব্যবস্থাকে বদলাতে পারব, তবেই আমাকে ভোট দেবে।” তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে একার পক্ষে পুরো সিস্টেম বদলানো কঠিন, কিন্তু পরিবর্তনের সূচনা করাই তার লক্ষ্য।
শিক্ষক হিসেবে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে শুভঙ্করবাবু বলেন, “আমার কাজ সমাজকে জাগিয়ে তোলা, সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। মাস গেলে যে বেতন পাই, তাতেই আমার সংসার চলে যায়। আমার কোনও ব্যক্তিগত লোভ নেই।” তিনি দাবি করেন, রাজ্যে তার মতো আরও প্রায় ২২ জন নির্দল প্রার্থী এবার নির্বাচনে লড়ছেন, যাদের মূল লক্ষ্য একটি নতুন রাজনৈতিক বিকল্প তৈরি করা। “মানুষ এখন বামফ্রন্ট, তৃণমূল বা বিজেপির বাইরে গিয়ে নতুন শক্তি খুঁজছে। আমরা সেই বিকল্প গড়ে তুলতে চাই,” বলেন তিনি। ভবিষ্যতে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান শুভঙ্কর হালদার। তার আশা, সাধারণ মানুষের সমর্থন পেলে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে।
সব মিলিয়ে, প্রচলিত রাজনৈতিক ধারা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা পথে হেঁটে শুভঙ্কর হালদারের এই একক প্রচার নবদ্বীপের নির্বাচনী আবহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার, তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।