কথিত আছে, এই এলাকাটিকে বনওয়ারীবাদও বলা হয়ে থাকে। তার কারণ এখানকার রাজাদের গৃহবিগ্রহ বনওয়ারীদেবের নাম থেকে। বনওয়ারীবাদ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতার নাম ছিল নিত্যানন্দ দালাল। তাঁরা জাতিতে ছিলেন তাঁতি। এই এলাকায় এখনও তন্তুবায় বা তাঁতিদের বাস বেশি। নিত্যানন্দের বাবা জগমোহন দালাল সোনারুন্দি গ্রামে বাস করতেন। ১৭৫০ খৃষ্টাব্দে সোনারুন্দিতে নিত্যানন্দের জন্ম।
advertisement
তিনি আরবী, পারসী ও উর্দু ভাষায় খুব পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন। অল্প বয়সে তিনি গৃহত্যাগ করে বৃন্দাবনে চলে যান। সেখান থেকে তিনি দিল্লির বাদশাহের দরবারে চাকরি জোগাড় করেন। অসাধারণ মেধা ও ফারসি ভাষায় দক্ষতার জন্যে সেই সময়ের মুঘল বাদশা দ্বিতীয় শাহ আলমের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্টতা হয়। কালক্রমে বাদশাহ সাহ আলম নিত্যানন্দের পারসি লেখাপড়ায় খুশী হয়ে তাঁকে নিজের কাছে রাখেন এবং রাজধানী দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে নিত্যানন্দকে নিজের মীরমুন্সী পদে নিযুক্ত করেন। সম্রাট তাঁকে দানেশবন্দ উপাধি দিয়েছিলেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে আছে এই সোনারুন্দি রাজবাড়ি। তবে এই সোনারুন্দি রাজবাড়ির অন্যতম আকর্ষণ এই মাছ। সোনারুন্দি বনওয়ারীবাদের রাজবাড়ীর পুকুরে মাছ দেখতে এখনও অনেক পর্যটকরা আসে। এক সময় নাকি এখানে সোনার নথ পরা মাছের দেখা মিলত। তবে এখানে মাছ নাকি কেউ ছাড়েনি, কেউ ধরেও না। লোকমুখে নানা গল্প শোনা যায়— কোনও এক সময় কেউ এক জন মাছ ধরতে গিয়েছিল। তার পর মুখে রক্ত উঠে মারা যায় সে। তবে পর্যটকদের দেওয়া বিস্কুট ও মুড়ি খেয়ে তারা রীতিমতো নধর হয়েছে। তবে আপনি ভয় না পেলে, তারা দিব্য আপনার হাত থেকে বিস্কুট খেয়ে যাবে। ফলে একদিন ছুটি কাটিয়ে আসতেই পারেন সোনারুন্দি রাজবাড়ি এবং দেখতে পারেন মাছ।





