শুনতে অবাক লাগলেও প্রায় ৩০০ বছর ধরে বসন্তকালে এই দুর্গাপুজো হয়ে আসছে বংশবাটী গ্রামে। যদিও জেলাবাসীর কাছে এই পুজো রাজরাজেশ্বরী দেবীর পুজো নামেই বেশি পরিচিত। স্থানীয় রাজুয়া দিঘির ঘাটে মঙ্গল ঘট ভরে এই পুজোর সূচনা করেন পুরোহিত বাবুরাম মজুমদার এবং নিতাই চক্রবর্তী। প্রাক বসন্তের এই দুর্গাপুজোর আনন্দে এখন মাতোয়ারা সমগ্র জেলাবাসী। দেবীর দর্শন পেতে রবিবার থেকেই মণ্ডপে ভিড় জমিয়েছেন মুর্শিদাবাদ বীরভূম-সহ পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ড এবং বিহারের প্রচুর মানুষ। রাজরাজেশ্বরী দেবীর পুজো উপলক্ষে গ্রামে বসেছে বড় মেলা। পুজোর দিনগুলোতে থাকছে বাউল গান, নাটক এবং কবি গানের আসর। রাজরাজেশ্বরী দেবীর পুজো এখন আর নির্দিষ্ট কোনও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সীমিত নেই। এই দুর্গোৎসব এখন সম্প্রীতির উৎসব। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ প্রত্যেক বছর এই পুজোতে শামিল হন। মহাসপ্তমীতে রাজরাজেশ্বরী মায়ের পুজো শুরু হয়ে চলে মাঘী পূর্ণিমা পর্যন্ত।
advertisement
আরও পড়ুন : বিনুনি করে ঘুমোবেন? নাকি খোলা চুলেই শুতে যাবেন রাতে? কীভাবে হুড়মুড়িয়ে লম্বা হবে চুল? সহজ যত্ন-টিপস!
গ্রামের বসিন্দা তথা এই পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য নিখিল আচার্য বলেন,”দেবী দুর্গার ষোড়শী রূপ হল রাজ রাজেশ্বরী। দেবীর সঙ্গে একই কাঠামোতে বিরাজ করেন চতুর্মুখী ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর এবং ধর্মরাজ। দু’পাশে দুই সখী জয়া এবং বিজয়াকে নিয়ে চতুর্ভুজা মা রাজ রাজেশ্বরীর অধিষ্ঠান । দেবীর বাহন সিংহ।” ধুলিয়ান এলাকার এক শিল্পী অগ্রহায়ণ মাস থেকে মন্দিরেই এই প্রতিমা নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রায় ৩০০ বছর ধরে মাঘ মাসে দেবী রাজরাজেশ্বরীর পুজো হয় বংশবাটী গ্রামে। প্রতিবছর ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিন মূল পুজো অনুষ্ঠিত হয়। তবে দেবীর ঘট ভরা হয় সপ্তমীর দিন ।দশমীর দিন থেকে মাঘী পূর্ণিমা পর্যন্ত দেবীর নিত্যপুজো হয়।