রাজ্য পুলিশের এসটিএফ-এর সাহায্যে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম সেল সুমনকে গ্রেফতার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, পাক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা এবং বাংলাদেশের কিছু কট্টরপন্থী মৌলবাদী জঙ্গিদের সাহায্য নিয়ে রাজধানী দিল্লির বুকে বড়সড় নাশকতার ছক কষা হচ্ছিল বলে সম্প্রতি গোয়েন্দারা খবর পান। সেই খবরের উপর ভিত্তি করে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম সেল তামিলনাড়ুর তিরুপুর থেকে মিজানুর রহমান, মহম্মদ লিটন, মহম্মদ সাবাত, উমর,মহম্মদ শাহিদ এবং মহম্মদ উজ্জ্বল নামে ৬ জনকে গ্রেফতার করে। ধৃত ৬ ব্যক্তি তামিলনাড়ুতে একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করতেন বলে সূত্রের খবর।
advertisement
ধৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা সুমন শেখ নামে এক যুবকের খোঁজ পায় তদন্তকারীরা। এসটিএফ -এর সাহায্যে ইতিমধ্যেই সুমনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, সম্প্রতি দিল্লির কয়েকটি জায়গায় ‘আজাদ কাশ্মীর’ লেখা পোস্টার পুলিশের নজরে আসে। এর পরই দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এই ঘটনার তদন্তভার নিজেদের হাতে নেয়। তদন্ত শুরু করার পর আধিকারিকদের নজরে আসে জঙ্গি কার্যকলাপকে সমর্থন করে তামিলনাড়ু থেকে কয়েকজন নিয়মিত সমাজমাধ্যমে পোস্ট করছে। এর পরই দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের অফিসাররা তামিলনাড়ুতে গিয়ে ওই ছয় ব্যক্তিকে জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত থাকার সন্দেহে গ্রেফতার করেছেন বলে জানা গিয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে একাধিক সিম কার্ড, মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে।
সূত্রের খবর, ধৃতদের কাছ থেকে যে পরিচয়পত্র উদ্ধার হয়েছে তার মধ্যে একাধিক পরিচয়পত্র ভুয়ো বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। তদন্তকারীরা আরও মনে করছেন,বাংলাদেশি নাগরিকরাই ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে এই দেশে থেকে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর ই তৈবা-র হয়ে নাশকতামূলক কাজের ছক কষছিল। সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদ থেকে সুমন শেখ নামে যে যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে তার বাড়ি লালবাগ শহরের গুধিয়া এলাকায়। সুমন এক সময় পুণের একটি লেদ কারখানায় কাজ করত। সম্প্রতি পুলিশ জোহাব শেখ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল। তার সূত্র ধরে এবং তামিলনাড়ুতে ধৃত ছ’জনের সূত্রে সুমনের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, সুমনের ফোনে পাকিস্তান থেকে আসা একাধিক মেসেজ যেমন পাওয়া গিয়েছে তেমনই সুমনের ফোন থেকে একাধিক ওটিপি পাকিস্তানে গিয়েছে বলেও সূত্রের খবর। সুমনের ক্রিপ্টো কারেন্সির কিছু লেনদেনের হদিশও তদন্তকারীরা পেয়েছেন বলে জানা যায়।কার সঙ্গে এবং কীভাবে টাকা এবং ওটিপি আদান প্রদান করত সুমন, তদন্তকারীরা সবই খতিয়ে দেখছেন।






