স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমপাড়ের মানুষ জলসংকটে ভুগছেন। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতেই বিধায়কের উদ্যোগে ‘জল স্বপ্ন’ প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি হয়। রাজ্য সরকারের তরফে জমি-সংক্রান্ত জটিলতা একসময় কাটলেও, কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্দ আটকে থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন থমকে যায়।
আরও পড়ুনঃ পারিবারিক বিবাদ থেকে রক্তারক্তি কাণ্ড! মালদহে দাদার হাতে খু*ন ভাই, অভিযুক্ত পলাতক
advertisement
এই প্রকল্পে ফরাক্কার অন্তর্গত বেওয়া ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা গুমানি নদীর জল পরিশোধন করে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল। এতে বেওয়া ১-২, বেনিয়াগ্রাম, ইমামনগর ও বাহাদুরপুর সহ একাধিক গ্রাম সরাসরি উপকৃত হত। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্রের জল জীবন মিশনের অর্থ না এলে রাজ্যের পক্ষে এককভাবে এত বড় প্রকল্পের ব্যয়ভার বহন করা কঠিন। ফলে আপাতত প্রকল্পের কাজ কার্যত স্থগিত।
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, এই প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেলে আবারও পুরনো সমস্যায় ফিরতে হবে। নলকূপের উপর নির্ভরতা, অপরিশোধিত জলের ব্যবহার এবং গ্রীষ্মকালে তীব্র জলসংকট— সব মিলিয়ে জনজীবনে প্রভাব পড়বে।
এই বিষয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা না হলেও, বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত রাজ্য–কেন্দ্র সমন্বয়ের মাধ্যমে জল স্বপ্ন প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার দাবি উঠেছে। সাধারণ মানুষের একটাই আবেদন, রাজনৈতিক টানাপড়েন নয়, অগ্রাধিকার পাক বিশুদ্ধ পানীয় জল।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম জানান, কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের খাতের টাকা আটকে দেওয়ায় এই প্রকল্পের কাজ থমকে আছে। ফরাক্কার পশ্চিমপাড়ের সব অঞ্চলের মধ্যে বাহাদুরপুর সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া এবং পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এখানে সাধারণ মানুষকে কুয়ো থেকে জল তুলতে হয়, টিউবওয়েল বসিয়ে জল তোলা সম্ভব হয় না। সেই কারণেই এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাহাদুরপুর থেকে শুরু করে বেনিয়াগ্রাম ও ইমামনগরের বেশ কিছু গ্রাম এবং বেওয়া ১-২ অঞ্চলে বাড়ি বাড়ি পরিশোধিত পানীয় জল পৌঁছে যেত।





