গতবছর কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে বিড়ি ,সিগারেট এবং তামাকজাত দ্রব্যের উপর ৪০ শতাংশ জিএসটি লাগু করার প্রস্তাব কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছিল। তারপর থেকেই আশঙ্কার মেঘ জমেছিল মুর্শিদাবাদের বিড়ি শিল্পের সঙ্গে জড়িত মালিক এবং শ্রমিক পক্ষের মধ্যে।
মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় ১৭ লক্ষ মানুষ বিড়ি শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত। কেবলমাত্র জঙ্গিপুর মহকুমাতে ৯ লক্ষর বেশি বিড়ি শ্রমিক রয়েছেন। জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে ১০০-র বেশি বিড়ি ফ্যাক্টরি রয়েছে। বিড়ি শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অনুমান, কেন্দ্র সরকার জিএসটি-র হার কমানোয় একদিকে যেমন বিড়ি ফ্যাক্টরি মালিকেরা বড় রেহাই পেতে চলেছেন অন্যদিকে বিড়ি শিল্পের সঙ্গে যে সমস্ত শ্রমিকেরা জড়িত তাঁরাও এখন সঠিক মজুরি পাবেন বলে সব পক্ষেরই মত।
advertisement
প্রসঙ্গত, বিড়ি শিল্পের সঙ্গে বিড়ি তৈরির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কেন্দু(তেন্দু) পাতার উপর ৫ শতাংশ জিএসটি বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। এই হারও আগের তুলনায় কম। গত বছর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় তামাকজাত দ্রব্যের ওপর ৪০ শতাংশ জিএসটি বসানোর প্রস্তাব অনুমোদন করার পর অনেকেই মনে করেছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলায় বিড়ি উৎপাদন প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যাবে। তবে কেন্দ্র সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তে বিড়ি শিল্প নতুন করে অক্সিজেন পেতে চলেছে বলেই তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মত।
সূত্রের খবর, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে মালদা এবং মুর্শিদাবাদ জেলার বিড়ি মালিকদের কাছ থেকে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার জিএসটি আদায় হয়েছিল। বর্তমানে ১০০০ বিড়ি তৈরির জন্য শ্রমিকদের ২১০ টাকা মজুরি ধার্য থাকলেও বেশিরভাগ বিড়ি ফ্যাক্টরি মালিক শ্রমিকদেরকে ১৯৫ টাকার বেশি মজুরি দেন না বলেই অভিযোগ। নতুন কর কাঠামোয় মালিক পক্ষের হাতে অতিরিক্ত টাকা সঞ্চয় হওয়ার সুযোগ তৈরী হওয়ায় শ্রমিকেরা এখন নিজেদের সঠিক মজুরি পাবেন বলেই আশায় দিন গুনছেন।





