যাতায়াতের বিড়ম্বনার অবসান
এই প্রস্তাবের প্রাথমিক সাফল্য হল হাওড়া এবং শিয়ালদহ ডিভিশনের মধ্যে সরাসরি সমন্বয় সাধন। হাওড়ার দিক থেকে আসা যাত্রীদের নশিপুর বা মুর্শিদাবাদ যাওয়ার জন্য এক ক্লান্তিকর যাত্রার সম্মুখীন হতে হতো। রেল মন্ত্রকের এই পদক্ষেপ কার্যকরভাবে সেই বাধা দূর করল। নশিপুরের বাসিন্দারা এখন সরাসরি হাওড়া নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবেন, অন্যদিকে হাওড়া ডিভিশনের যাত্রীরাও সরাসরি মুর্শিদাবাদের প্রাণকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারবেন।
advertisement
গঙ্গার দুই পারের জীবনরেখা
যদিও আজিমগঞ্জ এবং নশিপুর মুর্শিদাবাদের প্রতিবেশী এলাকা, তবুও মন্থর গতির ফেরি ও নৌকার ওপর নির্ভরতার কারণে কয়েক কিলোমিটারের দূরত্বও এক দীর্ঘ ভ্রমণের মতো মনে হতো। কৃষ্ণনগর (KNJ)- লালগোলা (LGL) সেকশনে অবস্থিত এই নতুন হল্ট স্টেশনটি জলপথের সময়সাপেক্ষ পারাপারকে দ্রুতগতির রেলযাত্রায় রূপান্তরিত করবে।
• কৃষি ও বাণিজ্য: নদীর উভয় তটই অত্যন্ত উৎপাদনশীল কৃষিক্ষেত্র। এই স্টেশনটি উৎপাদিত ফসলের দ্রুত বিনিময়ে সহায়তা করবে, যার ফলে কৃষকরা নদীর অনিশ্চিত পরিবহণের উপর নির্ভর না করেই উভয় দিকের বাজারে সহজে পৌঁছাতে পারবেন।
• জরুরি পরিষেবা: আজিমগঞ্জের মানুষের জন্য মুর্শিদাবাদ ও বহরমপুরের মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে অনেক সময় ‘গোল্ডেন আওয়ার’ (চিকিৎসার সংকটকাল) নষ্ট হয়ে যেত। এই রেল সংযোগটি জীবনদায়ী চিকিৎসার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য এবং সর্বকালীন পথ প্রদান করবে।
আরও পড়ুন– সল্টলেকের বাড়ি থেকেই উদ্ধার বৃদ্ধের পচা গলা দেহ ! ঠিক কী ঘটেছিল? তদন্তে পুলিশ
কৌশলগত সমন্বয়
মুর্শিদাবাদ এবং জিয়াগঞ্জ মধ্যবর্তি স্থানে অবস্থিত এই হল্ট স্টেশনটি নশিপুর সেতু ব্যবহারকারী এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোর ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে সহায়ক হবে। এখানে স্টেশন হলে স্থানীয় যাত্রীদের উত্তরবঙ্গগামী ট্রেন ধরার জন্য আর দূরবর্তী বড় স্টেশনে ছুটতে হবে না। রেলওয়ে বোর্ড তথা রেল মন্ত্রকের এই অনুমোদন প্রকল্পটির কৌশলগত গুরুত্বকেই তুলে ধরে—এটি কেবল সাধারণ মানুষের সুবিধাই নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের একটি অত্যাবশ্যক অর্থনৈতিক ধমনী হিসেবে কাজ করবে।
পরিশেষে, নশিপুর প্যাসেঞ্জার হল্টের অনুমোদন পূর্ব রেলওয়ের মানচিত্রে কেবল একটি কারিগরি সংযোজন নয়; এটি আঞ্চলিক সংহতির এক গভীর প্রতিফলন। হাওড়া এবং শিয়ালদহ ডিভিশনের সীমানা মুছে দিয়ে রেলওয়ে বোর্ড অবশেষে এমন দুটি অঞ্চলের স্পন্দনকে একীভূত করেছে, যা একই ইতিহাস ও জেলা ভাগ করে নেওয়া সত্ত্বেও ভাগীরথী নদীর কারণে আলাদা ছিল। এই স্টেশনটি প্রগতির সাক্ষ্য হয়ে থাকবে—যা ধীরগতির নৌ-পারাপারের বদলে একটি উচ্চগতির করিডোর উপহার দেবে; যা স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করবে, কৃষিজ বাণিজ্য বৃদ্ধি করবে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে সুবিধা ফিরিয়ে আনবে। মুর্শিদাবাদের মানুষের কাছে আজিমগঞ্জ ও নশিপুরের মধ্যকার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সেতুটি এখন আর কেবল একটি কাঠামোগত বিস্ময় নয়, বরং এটি একটি বাস্তব যা তাদের ঘর, বাজার এবং জীবনকে আগের চেয়ে অনেক কাছাকাছি নিয়ে আসবে।
