হুগলির ত্রিবেণী সঙ্গমে মাঘ সংক্রান্তিতে পুণ্যস্নানকে কেন্দ্র করে কুম্ভ মহোৎসব অনুষ্ঠিত হবে ১১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি। এ বছর পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ করছে ত্রিবেণীর কুম্ভস্নান। পুরাণ মতে, ত্রিবেণীকে বলা হয় ‘মুক্ত বেণী’ এবং প্রয়াগকে ‘যুক্ত বেণী’। উত্তর ভারতের কুম্ভ যেখানে প্রয়াগে অনুষ্ঠিত হয়, ত্রিবেণীকে বলা হয় দক্ষিণের কুম্ভ।
চালের সঙ্গে কতটা সুজি দিলে জুঁইফুলের মতো ঝরঝরে, নরম ইডলি হবে, জানেন? ঠিক মাপটা লিখে রাখুন
advertisement
৭০ বছরেও হাড়ভাঙা পরিশ্রম! ছেলের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন হাওড়ার এই মা, চালাচ্ছেন ৩ ফুটের দোকান!
পুরাণ ও ইতিহাসে ত্রিবেণীর মাহাত্ম্য বিশেষ উল্লেখযোগ্য। কথিত আছে, বেহুলা লক্ষ্মীন্দরকে নিয়ে গঙ্গাবক্ষে ভেসে যাওয়ার সময় ত্রিবেণী ঘাটে অবস্থান করেছিলেন। এক সময় সপ্তগ্রাম ছিল বাণিজ্য বন্দর, ত্রিবেণী সেই সপ্তগ্রামেরই অংশ। কালনা–কাটোয়া অঞ্চলে বর্গি হানার ইতিহাস, আলিবর্দি খাঁ-সহ মোগল আমলের নানা ঘটনার সাক্ষী এই জনপদ। আজও ত্রিবেণীতে নেতা ধোপানীর ঘাট, প্রাচীন মন্দির ও সাধু আশ্রম সেই ইতিহাসের স্মারক হয়ে রয়েছে। প্রায় সাতশো বছরের ঐতিহ্য বহন করছে ত্রিবেণীর এই ধর্মীয় পরম্পরা।
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, মকর সংক্রান্তিতে সাধুসন্তরা গঙ্গাসাগরে পূর্ণস্নান সেরে ত্রিবেণীতে এসে মাঘীস্নান করেন। আগেকার দিনে যাতায়াতের অসুবিধার কারণে গঙ্গাস্নান থেকে ফিরে আসতেই সাধুদের এক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেত। সেই ঐতিহ্য আজও বহমান।
এ বছর কুম্ভ মহোৎসবের সূচি অনুযায়ী, ১১ ফেব্রুয়ারি শিবপুর স্পোর্টিং ক্লাব ময়দানে গীতাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি হবে রুদ্রাভিষেক যজ্ঞ ও মহাদেবের সহস্রনাম পাঠ। পাশাপাশি আর আর ক্যাম্পে সাধুদের আখড়ায় ৫২টি পীঠের কল্পনায় ধুনী জ্বালানো হবে। ১৩ ফেব্রুয়ারি হবে মূল পুণ্যস্নান। তার আগে সাধুসন্তদের রাজসিক শোভাযাত্রা নগর পরিক্রমা করে সপ্তর্ষি ঘাটে এসে শেষ হবে। সেখানেই অমৃত যোগস্নান অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সাধু ভান্ডারাও রয়েছে।
- বঙ্গীয় ত্রিবেণী কুম্ভ মহোৎসব
- বুধবার, মাঘ ২৮ (ফেব্রুয়ারি ১১)
- শুক্রবার , মাঘ ৩০ (ফেব্রুয়ারি ১৩)
মাঘ ২৮ – ৩০, ১৪৩২ ( ফেব্রুয়ারি ১১-১৩, ২০২৬)
স্থান: ত্রিবেণী ক্যাম্প গেট (আর আর ক্যাম্প), শিবপুর স্পোর্টিং ক্লাব ময়দান, সপ্তর্ষি ঘাট
সকাল ৬:১১- সূর্যোদয়, আদিত্য হৃদয় মন্ত্র এবং শান্তি বচন
সকাল ৬:৪৫- দীপ প্রজ্জ্বলন
সকাল ৮ টা- ৯টা- নগর সংকীর্তন
সকাল ৯টা- বেলা ১২টা- বসে আঁকো ( নাম নথিভুক্ত করুন)
দুপুর ২টো- বিকেল ৫:৩০- সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
সন্ধ্যা ৫:৩০ – গঙ্গা আরতি ( সপ্তর্ষি ঘাট)
বৃহস্পতিবার, ২৯ (ফেব্রুয়ারি ১২)
সকাল ৬:১১- সূর্যোদয়, আদিত্য হৃদয় মন্ত্র এবং শান্তি বচন
সকাল ৯টা- দুপুর ১টা – রুদ্রাভিষেক যজ্ঞ, শিব সহস্র নাম যজ্ঞ
বেলা ১১:৩০ – দুপুর ১টা- শক্তিপীঠ পরিক্রমা, চিত্র প্রদর্শনী, পুস্তক প্রকাশ
দুপুর ২টো- বিকেল ৫:৩০- সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
সন্ধ্যা ৫:৩০ – গঙ্গা আরতি ( সপ্তর্ষি ঘাট)
সকাল ৬:১১- সূর্যোদয়, আদিত্য হৃদয় মন্ত্র এবং শান্তি বচন
সকাল ৯টা- ১১টা- সাধুসন্ত পরিবৃত রাজসিক শোভাযাত্রা
বেলা ১১:৩০ – ১২:৩০- সাধু মহাত্মার অমৃত যোগ স্নান ( সপ্তর্ষি ঘাট)
দুপুর ১টা- ৩টে- সাধু ভান্ডারা ( আর আর ক্যাম্প)
দুপুর ৩ টা- বিকেল ৫:৩০- সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
সন্ধ্যা ৫:৩০ – গঙ্গা আরতি ( সপ্তর্ষি ঘাট)
ধজ অবতরণ ও প্রতিমা নিরঞ্জন
কুম্ভ উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের ষোলটি শক্তিপীঠের মাটি ও জল আনা হয়েছে। প্রয়াগ থেকে আনা জল ও শক্তিপীঠের মাটি দিয়েই যজ্ঞ সম্পন্ন হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। স্বামী শিবানন্দ মহারাজ জানান, ইতিমধ্যেই সাধুরা আসতে শুরু করেছেন। ১১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি তিন দিন ধরে কুম্ভ মহোৎসব চলবে এবং শেষ দিন পুণ্যস্নান ও ভান্ডারার মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হবে।
নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কুম্ভ মেলার স্থান পরিদর্শন করেছেন কামনাশিষ সেন। তিনি জানান, কুম্ভমেলাকে কেন্দ্র করে বিপুল মানুষের সমাগম হবে। সেই কারণে মোতায়েন থাকবে প্রচুর পুলিশ। মেলা এলাকায় বসানো হবে একশোরও বেশি সিসি ক্যামেরা, থাকবে নির্দিষ্ট ‘নো এন্ট্রি’ জোন।
সব মিলিয়ে, প্রয়াগের আদলে হুগলির ত্রিবেণীতে শুরু হতে চলেছে এক ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় মহোৎসব, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে গোটা এলাকায়।
