নতুন এই শিব মন্দিরের নাম মহাকাল মহাতীর্থ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ‘ভবিষ্যতে এই মহাকাল মন্দির আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে৷ বিশ্বের অন্যতম বড় শিব মন্দির হবে এটি৷’ এই মন্দিরে দিনে ১ লক্ষ দর্শনার্থী আসতে পারবেন বলে জানান৷ মূল মন্দির ছাড়াও মহাদর্শনের জন্য বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মূর্তি থাকবে এই মন্দির চত্বরে৷ মোট উচ্চতা হবে ২১৬ ফুট৷ ১০৮ ফুটের ভিত্তির উপরে ১০৮ ফুট উচ্চতার ব্রোঞ্জের আরও একটি গোল মূর্তি থাকবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি জানিয়েছেন, মন্দিরের কাজ শেষ হতে কমবেশি আড়াই বছর সময় লাগবে৷
advertisement
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মন্দিরের সীমানা বরাবর ১২টা অভিষেক লিঙ্গ মন্দির থাকবে৷ ভারতের ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের প্রতিরূপ থাকবে এই মন্দিরে৷ শিবালয়ের রীতি অনুযায়ী মন্দিরের চার কোণে চারজন দেবতার মূর্তিও থাকবে৷ দুটি প্রদক্ষিণ পথ থাকবে, যেখানে একসঙ্গে দশহাজার ভক্তের সমাগম হতে পারবে৷ থাকবে দুটি সভামণ্ডপ৷ যেখানে একসঙ্গে ৬ হাজার মানুষ৷ ফ্রেসকো পেইন্টিংয়ের মাধ্যমে মহাকালের কাহিনি ফুটিয়ে তোলা হবে৷ থাকবে দুটি নন্দী গৃহ৷ রূদ্রাক্ষ কুণ্ড এবং অমৃত কুণ্ড থাকবে৷ সেখান থেকে ভক্তরা মন্দিরের পবিত্র জল বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন৷’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাকে শিল্পে এক নম্বর করব বলেছিলাম, করেই ছাড়ব৷’
এ ছাড়াও মন্দির চত্বরের ভিতরে প্রসাদ বিতরণ কেন্দ্র, ক্যাফেটেরিয়া, ডালা আর্কেড, পুরোহিতদের থাকার ব্যবস্থা সহ একাধিক সুবিধে৷ মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, মহাকাল মহাতীর্থকে কেন্দ্র করে এলাকায় পর্যটন শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটবে৷ প্রচুর হোটেল, দোকান এবং কর্মসংস্থানও বাড়বে৷ মন্দির পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে একটি ট্রাস্ট৷
মন্দিরের পাশেই আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার তৈরিরও জমি পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বেসরকারি কোনও সংস্থা উদ্যোগী হলে ভবিষ্যতে এই কনভেনশন সেন্টারও গড়ে তোলা হবে৷ মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে ওই এলাকায় ব্যবসায়িক লেনদেনও বাড়বে৷
দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদাহরণ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অদূর ভবিষ্যতে শিলিগুড়ির মাটিগাড়াতেও এই মহাকাল মহাতীর্থকে কেন্দ্র করে পর্যটন এবং আধাত্মিকতার মেলবন্ধন ঘটবে৷
