সেই মামলা দুটির আইনজীবী হিসেবে সেই সময় লড়ছিলেন অলোক কুমার দাস। ৯ জুলাই আচমকা যখন মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসে দলীয় কর্মীদের জন্য সাওয়াল করবেন বলে জানান। কোর্টে সওয়াল করার জন্য প্রয়োজন ল ইয়ার্স রোব। আইনজীবী অলোকবাবুর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রোবটি চেয়ে নিজেই পরে নেন গায়ে। তারপর সওয়াল শুরু করেন।
advertisement
কয়েক মিনিটের মধ্যেই মামলার যাবতীয় তথ্য অলোকবাবুর কাছ থেকে শুনে নিয়ে জোরদার সওয়াল করেন। পরবর্তীতে বার অ্যাসোসিয়েশনের দুই নম্বর রুমে যেখানে অলোক কুমার দাস বসতেন, সেখানে বসেই মাটির ভাঁড়ে চা খান। সেই দিনের পর থেকে ৩০ বছর হতে চলল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহার করা রোবটি আর কোনদিনও ব্যবহার করেননি আইনজীবী অলোক কুমার দাস। নিজের আলমারিতে যত্ন করে রেখে দিয়েছেন সেটা।
বছরে একবার ড্রাই ওয়াশ করে ফের তুলে রাখেন নিজের প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার জায়গায়। ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যখন সুপ্রিম কোর্টে প্রথমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুনানিতে হাজির হলেন, তখন ৩০ বছর আগের সেই দিনের ঘটনা মনে পড়ে গেল অলোক কুমার দাসের। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আনন্দের অশ্রুতে চোখ ভরে ওঠে। অলোক বাবুর একটাই স্বপ্ন, এই রোব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দিতে চান। যদি ভবিষ্যতে কোন মিউজিয়াম তৈরি হয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে, সেখানে যেন এই রোবটি সযত্নে রাখা থাকে, সেটাই তিনি চান।
