মৃতের পরিবারের সদস্যরা জানান, এসআইআর হেয়ারিং সংক্রান্ত একটি নোটিশ পান তিনি। নোটিশে উল্লেখ ছিল, ‘বর্তমানে তিনি এমন একজনের কন্যা বা পুত্র, যাকে আরও ছ’জন বাবা বলে দাবি করছেন’। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে হেয়ারিং কেন্দ্রে যেন হাজির হন হাজেরা বিবি। হেয়ারিং সম্পন্ন হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্যায়ের তালিকা প্রকাশিত হয়। সেখানে নিজের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ হিসেবে দেখতে পেয়েই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এরপরই আতঙ্কিত ওই মহিলা চরম পদক্ষেপ নেন। ঘটনা দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসা চলাকালীন এদিন সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
advertisement
আরও পড়ুনঃ ভোটার তালিকায় পরিবারের ৩ জনের নাম বিচারাধীন! ‘এই’ ব্যক্তি যা সিদ্ধান্ত নিলেন…! ভয়ঙ্কর
এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃতের পরিবারের সদস্যরা জানান, “হিয়ারিং নোটিশ আসার পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে কিছু নথি নিয়ে সমস্যায় ছিলেন হাজেরা বিবি। বাবার নামের নথি না পাওয়ায় ভয়ে ছিলেন। এরপর এদিন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর নিজের নাম ‘বিচারাধীন’ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। রাতে বিষ পান করে আত্মহত্যা করেন তিনি।”
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে মৃতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বাড়িতে যান প্রতিমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক তাজমুল হোসেন। তিনি পরিবারকে আশ্বস্ত করে সমস্তরকম সরকারি সাহায্যের আশ্বাস দেন। ঘটনার নিন্দা প্রকাশ করে মন্ত্রী তাজমুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “খুব দুঃখজনক ঘটনা। এসআইআর প্রক্রিয়ার ত্রুটি ও বিভ্রান্তিকর নোটিশের কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্র সরকারের এমন সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের হয়রানি হচ্ছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ হঠাৎ করে নিজের নাম ‘বিচারাধীন’ দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। এই ঘটনার জন্য নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকার দায় এড়াতে পারে না। ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি।”






