মালদহের প্রাক্তন সাংসদ এবং গণি খান চৌধুরীর ভাগ্নি৷ কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হলেও উনিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে দল বদলে গিয়েছিলেন তৃণমূলে৷ কিন্তু, ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে জানুয়ারি মাসে ফের তৃণমূল থেকে কংগ্রেসে ফেরেন তিনি৷ ‘ঘর ওয়াপসির’ পরে মালদহের মালতীপুর থেকেই মৌসম বেনজির নূরকে প্রার্থী করেছে তাঁর দল৷
advertisement
শনিবার প্রথমে মালদহের মানিকচকে এবং তারপর মালতীপুরে প্রচারসভা করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ স্বাভাবিক ভাবেই মালতীপুরের সভামঞ্চ থেকে কংগ্রেস প্রার্থী সম্পর্কে মন্তব্য করতে শোনা যায় তৃণমূলনেত্রীকে৷ কিন্তু, নাম না নিয়ে৷ থেকে মমতা বলেন, ‘‘মালদহের কোনও প্রতিনিধি লোকসভায় ছিল না বলে আমরা এই জেলার প্রতিনিধিকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলাম। অনেক দিন ছিলেন। ভোটের আগে তিনি অন্য দলে গিয়েছেন। তাতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু পলাতকদের মানুষ ক্ষমা করবে না। ’’
এরপরেই মৌসম বেনজির নূরকে নাম না করেই আক্রমণ করেন মমতা৷ বলেন, ‘‘উনি তো ভোটে লড়ে সাংসদ হতে পারেননি। বিধায়কদের ভোটে জিতেছিলেন। আমার ভোটও পেয়েছিলেন। নিজে জীবনে রাজ্যসভায় যেতে পারিনি। এত সুযোগ পাওয়ার পরেও দলের বিরোধিতা ভোটের সময়! ভোট যেন না পায়।’’
এদিনের মঞ্চ থেকে তৃণমূলের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি এসআইআর ইস্যু নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী৷ বলেন, ‘‘গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে আঘাতের প্রতিবাদে আমরা দিল্লি যাব। ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আমরা সব রকম সাহায্য করব। এসআইআর নিয়ে আমি মামলা করেছিলাম বলেই ২২ লক্ষ মানুষের নাম উঠেছে। নিজে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলাম। আমরা সকলের ভোটাধিকার চাই।’’
এরপরেই মালদহ নিয়ে অভিমানী মমতার মন্তব্য, ‘‘তৃণমূলকে ভোটটা দেবেন। অন্য দলকে ভোট দিলে আমি আপনাদের সঙ্গে আর কোনও সম্পর্ক রাখব না। উন্নয়ন চলবে। তবে আমি খুব সেন্টিমেন্টাল। আমি অসম্মানিত বোধ করব। আর সম্পর্ক রাখব না। নববর্ষে আপনাদের আম, আমসত্ত্বের উপহার যেন এ বার তৃণমূল পায়।’’
