বর্ধমানের হরিসভা গার্লসের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী অঙ্কিতা দাঁ। সিট পড়েছে বর্ধমানের তিন নম্বর হাইস্কুলে। সঙ্গে এসেছিলেন মা অঞ্জনা দাঁ। বাড়ি বর্ধমানের বাজেপ্রতাপপুরে। বাবা নিশীথ দাঁ মুদিখানা দোকান চালান। পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢোকার সময় মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার জোগাড় অঙ্কিতার। সঙ্গে নেই অ্যাডমিট কার্ড। রাস্তায় পড়ে যায়নি তো! নাকি বাড়িতেই ফেলে এসেছে। এখন উপায়! চিন্তায় মা মেয়ে দু’জনেই।
advertisement
আরও পড়ুন-জিয়াগঞ্জ থেকে বেরতেই আসল রূপ দেখালেন আমির, অরিজিতকে যা বললেন…, ফাঁস হতেই তোলপাড়
ঠিক তখন তাদের সামনে মুশকিল আসান হয়ে উপস্হিত হলেন চিন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়। হাতে বালা, মাথায় সাদা ফেট্টি। এলেন মোটর সাইকেলে। তিনি বর্ধমান বীরহাটা ট্রাফিক গার্ডের ওসি। ‘দাবাং অফিসার’ হিসেবে তাঁকে চেনেন সকলেই। বেচাল হলে রক্ষে নেই। লাঠি দিয়ে মেরে টোটো ভাঙতে সময় নেন না তিনি। তিনি পৌঁছলেই কেটে যায় যানজট। ভয়ে সবাই শৃঙ্খলা মানতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সেই অফিসার অভয় দিলেন অঙ্কিতা ও তার মা অঞ্জনা দেবীকে।
আরও পড়ুন- ‘মহাপ্রলয়’ আসছে….! কেতুর গোচরে কাঁপবে দুনিয়া, ৩ রাশির জীবন সঙ্কটে, আর্থিক ক্ষতি কাঙাল করে ছাড়বে
এরপর আরও অবাক করার পালা। শুধু মুখে আশ্বস্ত করা নয়, কাজে করে দেখালেন তিনি। অঞ্জনা দেবীকে মোটর সাইকেলে চাপিয়ে নিয়ে গেলেন বাড়িতে। সেখান থেকে অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে তাঁকে আবার স্কুলে পৌঁছে দিলেন ‘দাবাং অফিসার’। দেখালেন, ট্রাফিক ওসি হিসেবে তিনি যতই কঠোর কঠিন হোন না কেন, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তিনি ততটাই সহানুভূতিশীল।
পরীক্ষার্থীর মা অঞ্জনাদেবী বললেন, ওই পুলিশ অফিসারের এই সহায়তার কথা কোনও দিন ভুলব না। যেভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন তাতে আমরা অভিভূত। পুলিশের সৌজন্যে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পেরে খুশি অঙ্কিতাও। বর্ধমানের বীরহাটা ট্রাফিক গার্ডের ওসি চিন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অ্যাডমিট কার্ড না থাকায় ওই পরীক্ষার্থী সমস্যার মধ্যে পড়েছে জানতে পেরে সেখানে যাই। তাকে সাহায্য করতে পেরে ভাল লাগছে।
