যুদ্ধের দামামায় কমার্শিয়াল গ্যাসের আকাল। মেনুতে কাটছাঁট আগেই হয়েছিল, এবার হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ হতে শুরু করল আলিপুরদুয়ারে। আলিপুরদুয়ার শহরের ‘জনপ্রিয় হোটেল’ ও ‘কুক্কুস ধাবা’ বন্ধ করে দেওয়া হল । থানা রোডের এই দুই হোটেল বন্ধ হওয়ায় শহরজুড়ে হোটেল-ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দুই হোটেল কর্তৃপক্ষই জানিয়েছে, অনির্দিষ্ট কালের জন্য তারা হোটেল বন্ধ রাখছে। কারণ, ১৮০০ টাকার সিলিন্ডারের দাম উঠেছে ৩৫০০ টাকায়। তাও বুকিংয়ের চার-পাঁচ দিন পর মিলছে সিলিন্ডার। এই অবস্থায় হোটেল-রেস্তোরাঁ চালানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন হোটেল, রেস্তোরাঁর মালিকেরা।
advertisement
‘জনপ্রিয় হোটেল’-এর মালিক দেবব্রত চট্যোপাধ্যায় বলেন, “ আমাদের হোটেল শহরের নাম করা হোটেল। আমরা ডোমেস্টিক গ্যাস ব্যবহার করি না। ডোমেস্টিক গ্যাস দোকানে ব্যবহার করলে পুলিশ নিশ্চিত অভিযান চালাবে। আমাদের হোটেল সিল করবে। অন্যদিকে কমার্শিয়াল গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৩৫০০ টাকায় উঠেছে। তাও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। এই অবস্থায় কোনওভাবেই হোটেল চালানো সম্ভব নয়। তাই অনির্দিষ্ট কালের জন্য হোটেল বন্ধ করে দিলাম।”
অন্যদিকে শহরের ‘কুক্কুস ধাবা’র মালিক অভিজিৎ দাস বলেন, “ কমার্শিয়াল গ্যাসের সিলিন্ডারের যা দাম উঠেছে, তাতে ব্যবসা করে কর্মচারিদের মজুরি দেওয়া মুশকিল হবে। তাই আমরা ধাবা বন্ধ করে দিয়েছি। আমাদের কিছুই করার নেই। আমরা খুব বড় ব্যবসায়ী নই। কর্মচারি ও আমরা সবাই পথে বসলাম। কী হবে বুঝতে পারছি না।”
ইরান যুদ্ধের আঁচে এবার পুড়ছে মফস্বল শহর আলিপুরদুয়ারও । শহরে দুই হোটেল রেস্তোরা বন্ধ হতেই অন্যান্য হোটেল রেস্তোরা ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। খাবার খেতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন মানুষেরা। রবিবার হোটেলে খাবার খেতে এসে ঘুরে গিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা বিপ্লব দে। তিনি বলেন , “ আমরা বাইরে কাজ করি। বাইরে খেতে হয়। এদিন খেতে এসে দেখি হোটেল বন্ধ। এভাবে পর পর হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেলে শহরের অর্থনীতি ভেঙে পড়তে পারে।”
