স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মকর সংক্রান্তির দিন এবং তার পরের দিন বনদেবী নীঝারি বুড়ির পুজো অর্চনা করা হয়। সংক্রান্তির পরের দিন একবেলা এই গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, নীঝারি বুড়ি কয়েকশো বছর প্রাচীন এক লৌকিক দেবী। যাঁকে বন ও গ্রামের রক্ষাকর্ত্রী হিসেবে মানেন স্থানীয় মানুষজন।
advertisement
জঙ্গলাকীর্ণ এলাকা জুড়ে এই দেবীর পুজোর প্রচলন শুরু করেছিলেন লোধা শবর সম্প্রদায়ের মানুষজনই। দশকের পর দশক ধরে এই পুজোকে কেন্দ্র করে গ্রামে বসছে মেলা। পুজো দিতে এবং মেলার আনন্দ উপভোগ করতে আশপাশের এলাকা তো বটেই, দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ এখানে আসেন।
যদিও বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় বড় বাজেটের মেলা, আধুনিক বিনোদনের আয়োজন চোখে পড়ে, তবুও এই প্রান্তিক গ্রামে মেলার আয়োজন আজও সম্পূর্ণভাবে স্থানীয় লোধা শবর সম্প্রদায়ের উপরেই নির্ভরশীল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেলার আকার ও দোকানের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। খেলনা, মনোহারি, খাবারের দোকান মিলিয়ে মেলায় জমে ওঠে উৎসবের আবহ।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এত কিছুর মধ্যেও প্রাচীন রীতি, লোকাচার এবং আদিবাসী সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা আজও অটুট রয়েছে। বনদেবীর পুজো ও এই একদিনের মেলা তাই শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রান্তিক সমাজের বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জীবন্ত দলিল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।





