ওয়াও মোমোর সেই গুদামের ম্যানেজার এবং ডেপুটি ম্যানেজারকে বৃহস্পতিবার রাতে নরেন্দ্রপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের শুক্রবারই বারুইপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হবে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মনোরঞ্জন শিট আনন্দপুরের গুদামে ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন। ডেপুটি ম্যানেজার ছিলেন রাজা চক্রবর্তী।
তাঁরা দুজনেই ওয়াও মোমোর কর্মী। গত ২৫ জানুয়ারি মধ্যরাতে গুদামে যখন আগুন লাগল, তখন তাঁরা কোথায় ছিলেন, তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে চাইতে পারেন তদন্তকারীরা। আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় পর পর দু’টি গুদামে আগুন লেগেছিল। দ্বিতীয় গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই গুদাম থেকে আগুন ছড়ায় ওয়াও মোমোর গুদামেও। রাতের ডিউটিতে থাকা কর্মীরা ভিতরে আটকে পড়েছিলেন। জোড়া গুদামের অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৬ জনের।
advertisement
বুধবার রাত পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছিল ২১। বৃহস্পতিবার ভোররাতে দুটি এবং বিকেলের দিকে আরও দুটি দগ্ধ দেহাবশেষ পাওয়া যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ এতটাই ভস্মীভূত যে সাধারণ চোখে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। ইতিমধ্যেই ১৬ জনের দেহ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজদের নিকটাত্মীয়দের থেকে এখনও পর্যন্ত ভ্যারিয়েবল ডিএনএ স্যাম্পল বা নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৩২টি। স্টেট ফরেনসিক প্যাথলজি উইং এগুলোকে ম্যাপিং করছে। বৃহস্পতিবার সারাদিনে যে চারটি দেহ উদ্ধার হয়েছে, তা আজ শুক্রবার মোমিনপুর কাটাপুকুর মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। এই ২৫ জনের মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র একটি প্রায় পূর্ণাঙ্গ দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
