আনন্দপুরের ঘটনার প্রতিবাদে আজ, শুক্রবার নরেন্দ্রপুর পর্যন্ত মিছিল করার কথা বিজেপির৷ আদালতের অনুমতি পাওয়ার পরে এদিন নরেন্দ্রপুর থানা পর্যন্ত বিজেপি যাদবপুর সাংগঠনিক জেলা সংগঠনের কর্মীরা। মিছিল হবে গড়িয়া ঢালাই ব্রিজ থেকে মিছিল যাবে নরেন্দ্রপুর থানা পর্যন্ত। নেতৃত্বে থাকছেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
আরও পড়ুন: ধ্বংসস্তূপ সরাতেই বেরিয়ে এল…! আনন্দপুরে উদ্ধার আরও ৪ অগ্নিদগ্ধ দেহ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫
advertisement
বিজেপির দাবি, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দিতে হবে, আইসি সাসপেন্ড করতে হবে, পঞ্চায়েতকে বাজেয়াপ্ত করতে হবে৷ শুভেন্দুদের দাবি, শুধু ডেকোরেটর্স মালিক নয়, যাঁরা দোষী সকলকে গ্রেফতার করতে হবে এই দাবিতে নরেন্দ্রপুর থানা পর্যন্ত মিছিল।
মিছিল শেষে থানায় ডেপুটেশন জমা দেওয়ার পরিকল্পনা বিজেপির। সকালে থেকেই ঢালাই ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় জমায়েত শুরু করেন বিজেপি কর্মী সমর্থকদের।
গত বুধবার রুট বদলে প্রতিবাদ মিছিলের অনুমতি পেয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীরা। শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি দেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। হাইকোর্ট জানায়, শীতলা মন্দির-ঢালাই ব্রিজ- ইএমবাইপাস- নরেন্দ্রপুর থানা এই রুট দিয়েই এই প্রতিবাদ মিছিল করতে হবে।
শুক্রবার সকাল ১১:৩০ থেকে বিকেল ৩:৩০ পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফে। এই রুটে ২০০০ জমায়েতে প্রতিবাদ মিছিল করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট।
আরও পড়ুন: বাবা-মা বাইক কিনে দেয়নি, টাকা জোগাড়ে আনন্দপুরে কাজ নিয়েছিল স্কুলছাত্র! আজও সে নিখোঁজ
বুধবার রাত পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছিল ২১। বৃহস্পতিবার ভোররাতে দুটি এবং বিকেলের দিকে আরও দুটি দগ্ধ দেহাবশেষ পাওয়া যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ এতটাই ভস্মীভূত যে সাধারণ চোখে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।
ইতিমধ্যেই ১৬ জনের দেহ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজদের নিকটাত্মীয়দের থেকে এখনও পর্যন্ত ভ্যারিয়েবল ডিএনএ স্যাম্পল বা নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৩২টি। স্টেট ফরেনসিক প্যাথলজি উইং এগুলোকে ম্যাপিং করছে।
বৃহস্পতিবার সারাদিনে যে চারটি দেহ উদ্ধার হয়েছে, তা আজ শুক্রবার মোমিনপুর কাটাপুকুর মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। এই ২৫ জনের মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র একটি প্রায় পূর্ণাঙ্গ দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
পুলিশের সূত্র বলছে, ওই ব্যক্তির শরীরের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পুড়ে গেলেও, তাঁর পরনের পোশাক দেখে অনুমান করা হচ্ছে তিনি ওই মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থারই কর্মী। তাঁর বয়স আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। যদিও ওই ব্যক্তির পরিবার এখনও নিশ্চিতভাবে দেহটি শনাক্ত করেনি। তাই ওই দেহটিও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
