আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক বীরকুমার শী’র কথায়, ১৭৮৮ সালে কোম্পানির ‘সল্ট এজেন্ট’ হিসেবে এন ডবলিউ হিউয়েট নিযুক্ত হওয়ার পর কাঁথিতে লবণ ব্যবসার স্থায়ী কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কাঁথি ও হিজলি পরগনায় লবণ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে তিনি নিমকমহল নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। হিজলি পরগনার মাজনামুঠার রাজা যাদবরাম রায়ের রানি সুগন্ধাদেবীর কাছ থেকে বার্ষিক এক টাকা খাজনার শর্তে পূর্ব কুমারপুর, আঠিলাগড়ি ও পশ্চিম কুমারপুর—এই তিনটি মৌজার মোট ৩০৫ বিঘা জমি কেনা হয়। সেই জমিতেই নিমকমহল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পরে ডনির্থন নামে আর এক ‘সল্ট এজেন্ট’ ওই জমির উপর তিনতলা প্রাসাদোপম ভবন নির্মাণ করেন। পরবর্তীকালে এই ভবনটি নিমকমহল বা বড়কুঠি নামে পরিচিত হয়।
advertisement
নিমকমহলের নির্মাণশৈলী লক্ষ্য করলে স্পষ্ট বোঝা যায়, এটি মূলত সওদাগরি অফিসের আদলেই তৈরি হয়েছিল। ভবনের একতলায় চলত দফতরের কাজকর্ম। দোতলা ও তিনতলায় থাকতেন লবণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা। ১৮৫২ সালে কাঁথি মহকুমা গঠিত হলেও প্রথম দিকে মহকুমাশাসকের অফিস ছিল নেগুয়ায়। ১৮৬৩ সালে সেই অফিস পাকাপাকিভাবে নেগুয়া থেকে উঠে আসে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পরিত্যক্ত বড়কুঠিতে। ইংরেজ সরকার লবণ এজেন্ট ডনির্থনের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে জমি ও ভবনটি কিনে নেয়। এরপর সেখানে মহকুমাশাসকের কাছারি, বাসভবন এবং উদ্যান তৈরি করা হয়।
১৯৪২ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বড়কুঠি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় তলার একাংশ ভেঙে পড়ে এবং তৃতীয় তলাতেও মারাত্মক ক্ষতি হয়। বর্তমানে কাঁথি মহকুমাশাসকের অফিস চত্বরের পাশেই অতীত ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই বড়কুঠি। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত এখানে কাঁথির ফৌজদারি আদালত ও মহকুমাশাসকের কয়েকটি দফতরের কাজ চলত। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে আজ এই প্রাচীন স্থাপত্য জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্বাধীনতা আন্দোলনে গৌরবময় ভূমিকা থাকা ‘বিপ্লবতীর্থ’ কাঁথির প্রথম মহকুমাশাসকের অফিস বড়কুঠি প্রশাসনিক উদাসীনতায় হারিয়ে যেতে বসেছে। বিভিন্ন সংগঠন বহুবার একে হেরিটেজ ঘোষণার দাবি জানালেও এখনও সংস্কারের উদ্যোগ শুরু হয়নি।





