ঝাড়গ্রাম, নয়াগ্রাম এবং গোপীবল্লভপুর ব্লকের প্রায় ৮৫% জমিতে সাবাই ঘাস জন্মায়। এই সমস্ত এলাকার প্রায় ৪৮,০০০টি পরিবার এই ঘাস চাষ, তা থেকে দড়ি তৈরি এবং হস্তশিল্পের মাধ্যমে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে। আগে সাবাই ঘাস থেকে মূলত দড়ি তৈরি হতো। কিন্তু সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিল্পীরা এখন সাবাই ঘাস থেকে শৌখিন ব্যাগ, ম্যাট, ঝুড়ি, ট্রে, গয়না বাক্স-সহ ঘর সাজানোর বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করছেন।
advertisement
ঝাড়গ্রামের সাবাই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের একটি বড় অংশই হল মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী। বাড়িতে বসেই এই কাজ করার সুযোগ থাকায় গ্রামীণ নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংসারের কাজ সামলে ফাঁকা সময়ে গৃহবধূরা সাবাই শিল্পে নিজেদের নিযুক্ত করছেন। সাবাই তাঁদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করেছে। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঝাড়গ্রাম ও বেলপাহাড়ির গুরুত্ব বাড়ায় সাবাই-সহ স্থানীয় অন্যান্য হস্তশিল্পীদের বিক্রির সুযোগও আগের চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
খরাপ্রবণ এবং অনুর্বর জমিতে সাবাই ঘাস স্বাচ্ছন্দে জন্মায়। সেসব জমিতে ধান বা অন্যান্য ফসল চাষ সম্ভব নয় সেখানে চাষিদের জন্য় নিশ্চিত আয়ের পথ দেখাচ্ছে সাবাই ঘাস। ঝাড়গ্রামের পাশাপাশি বাঁকুড়াতেও প্রসিদ্ধ সাবাই ঘাসের শিল্প।
কীভাবে তৈরি হয় সাবাই ঘাসের শৌখিন সামগ্রী?
প্রথমে সাবাই ঘাস সংগ্রহ করে তা রোদে শুকানো হয়। শুকনো ঘাসগুলিকে পাক দিয়ে দড়ি তৈরি করা হয়। আর সেই দড়ি দিয়েই বিভিন্ন শৌখিন ও ঘর সাজানোর সামগ্রী গড়া হয়। এরপর তাতে ভেষজ রঙ করা হয়। রঙ শুকিয়ে গেলে গরম জলে ধুয়ে রোদে শুকনো করা হয়। ১০০ শতাংশ পরিবেশবান্ধব সাবাই ঘাসের সামগ্রীর জনপ্রিয়তা বিদেশের বাজারে বাড়ছে।
