দিন কয়েকের মধ্যেই বসন্তের ছোঁয়ায় গা ভাসাবে গোটা বাংলা। এই অবস্থায় রাসায়নিক আবিরের বদলে ভেষজ আবিরের চাহিদা বাড়ছে। এবার ভেষজ আবিরের কাজে চা শ্রমিকরা। চা বলয়ে শুধু পাতা তোলা নয়, এবার ভেষজ আবির তৈরি করে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছেন চা শ্রমিকেরা। উত্তরবঙ্গের তরাই অঞ্চলের শিলিগুড়ি খড়িবাড়ির প্রত্যন্ত গ্রাম গাইন জোত। এই এলাকায় বসবাস করে চা শ্রমিক পরিবারেরা। শীতকালে ডিসেম্বর থেকে ফ্রেব্রুয়ারি চা বাগানে পাতা তোলার কাজ নেই বললেই চলে। এই অবস্থায় কাজ না থাকায় কষ্টে চলে দিনযাপন। বাগানের কাজে ফাঁকে প্রাকৃতিক ফুল, শাক দিয়েই ভেষজ আবির তৈরি করছেন চা শ্রমিকরা।
advertisement
দোল উৎসবে আবির জোগান দিতে দল বেঁধে চলছে ভেষজ আবির তৈরি কাজ। জবা, নীলকন্ঠ, গাঁদা, অপরাজিতা ফুল-সহ পালক শাক, বিট, কাঁচা হলুদ দিয়েই তৈরি হচ্ছে দোলের আবির। কেউ বাটছে ফুল, কেউ শুকচ্ছে আবির, আবার কেউ করছেন আবির প্যাকেটিং। এই ভেষজ আবির তৈরিতে চা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন গাইনজোত প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক।
আবির তৈরি থেকে প্যাকেটিং করতে চা শ্রমিকদের হাতেখড়ি দিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই ৩০০ প্যাকেট ভেষজ আবির বিক্রি হয়েছে। শুধু দোলের আবির নয়। পরে রাখি, মোম ও প্রদীপ তৈরি করার স্বপ্ন রয়েছে চা শ্রমিকদের। অপরদিকে প্রথম বছরে ভাল সাড়া ফেলেছে এই আবির। উৎসাহের সঙ্গে ভেষজ আবির বানানো হচ্ছে। আবির-সহ রাখি, মোম ও প্রদীপ তৈরির প্রশিক্ষণ পেলে আগামীদিনে গ্ৰামের চা শ্রমিক মহিলারা আত্মনির্ভরশীল হতে পারবেন বলে আশাবাদী গাইনজোত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
