উত্তরবঙ্গের জঙ্গলঘেরা পরিবেশে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থানের এক অনন্য ছবি দেখা মিলছে গরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন চাটুয়া বনবস্তিতে। ময়নাগুড়ি ব্লকের এই ছোট্ট বসতিতে প্রতিদিনের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জঙ্গলের বাসিন্দারাও। এলাকাটি জঙ্গলের খুব কাছাকাছি হওয়ায় মাঝেমধ্যেই হাতি, বাইসনসহ নানা বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে। তবে আশ্চর্যের বিষয়, এই উপস্থিতি নিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে তেমন আতঙ্ক বা ক্ষোভ নেই।
advertisement
বরং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় তারা শিখে নিয়েছেন কীভাবে প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বসবাস করতে হয়। স্থানীয়দের মতে, বন্যপ্রাণীর কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা এখানে খুব একটা ঘটে না। নিরাপত্তার জন্য অনেক বাড়ির পিছনে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। রাতে কোথাও হাতি বা অন্য কোনও বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি টের পেলে গ্রামবাসীরা আলো জ্বালিয়ে বা শব্দ করে তাদের জঙ্গলের দিকে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন। গ্রামের এক বাসিন্দার কথায়, “এই জঙ্গল যেমন তাদের বাড়ি, তেমনই আমাদেরও।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তাই একে অপরকে বুঝে নিয়েই থাকতে হয়।” স্থানীয়দের দাবি, দিনের বেলায় অনেক সময় হাতি বা অন্যান্য বন্যপ্রাণী জঙ্গলের ধারে এসে কলা, বাঁশ বা কচি গাছের পাতা খেয়ে আবার জঙ্গলে ফিরে যায়। তবে রাতের দিকে তাদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কমই দেখা যায়। প্রায় ৮০টি পরিবারের বসবাস এই বনবস্তিতে। বছরের পর বছর ধরে মানুষ ও বন্যপ্রাণী এখানে এক ধরনের নীরব বোঝাপড়ার মধ্যে দিয়ে সহাবস্থানে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।





