অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পোস্ট অফিসের এক এজেন্ট এলাকার মানুষদের কাছ থেকে ডাক বিভাগের বিভিন্ন স্কিমে টাকা তুললেও তা জমা দেননি। গ্রাহকদের দেওয়া সেই টাকাগুলি রীতিমতো তিনি নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। আর্থিক তছরুপের শিকার হওয়া গ্রাহকদের এমনটাই অভিযোগ। সেই কারণে এদিন সকাল থেকে পোস্ট অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখায় সাধারণ মানুষ।
আরও পড়ুনঃ ১৯৭৪ থেকে ২০২৬! দুবরাজপুর আদালতের অন্যতম প্রাচীন মামলার নিষ্পত্তি, শেষ হল পাঁচ দশকের অপেক্ষা
advertisement
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দকুমারে ডাক বিভাগের গ্রাহকদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ-এর অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। জানা যায়, ব্যবত্তারহাট উপ-ডাকঘরের স্বল্প সঞ্চয় এজেন্ট হিসেবে কর্মরত চকপুয়্যাদা গ্রামের বাসিন্দা টুম্পা মাইতি। তিনি গ্রাহকদের কাছে বিভিন্ন স্কিমে টাকা তুলে পোস্ট অফিসে জমা করেননি বলে অভিযোগ। এদিন সকাল থেকে ব্যবত্তারহাট উপ-ডাকঘরের সামনে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন শতাধিক ক্ষুব্ধ গ্রাহক। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নন্দকুমার থানার পুলিশবাহিনী। তাঁদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে।
এক গ্রাহক তাঁর জমা টাকার পরিমাণ জানতে ডাকঘরে গিয়ে দেখেন, তাঁর বেশিরভাগ টাকা ডাকঘরে জমা হয়নি। বিষয়টি তিনি পোস্টমাস্টারকে জানালে তদন্তে জানা যায়, ওই এজেন্ট নিয়মিতভাবে অনেক গ্রাহকের টাকা ডাকঘরে জমা দেননি। এরপরই সামনে আসে, প্রায় ১৫০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযোগ, নকল ডাক বিভাগের স্ট্যাম্প ব্যবহার করে পাসবুকে ‘জমা হয়েছে’ বলে দেখাতেন ওই এজেন্ট। উপ-ডাকঘরের সাব-পোস্টমাস্টার অনুপ কুমার আদক বলেন, “ওই এজেন্ট প্রায় ৩০০ গ্রাহকের টাকা লেনদেন করতেন।একজন গ্রাহক তাঁর অ্যাকাউন্ট চেক করার সময় বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। তারপর খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি প্রায় ১৫০ জন গ্রাহকের টাকার একাংশ জমা হয়নি। বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”
ওই ডাকঘরের এক গ্রাহক মহাদেব মণ্ডলের অভিযোগ, “আমি প্রায় দশ বছর ধরে রেকারিং করে আসছি। আগে একটা মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর টাকা পেয়েছিলাম। কিন্তু জানুয়ারিতে একটি মেয়াদ পূর্ণ হলেও অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। খোঁজ নিয়ে দেখি প্রায় এক লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা ডাকঘরে জমা হয়নি।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
ঘটনাটি জানাজানি হতেই গ্রাহকদের ক্ষোভ আরও চরমে ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, রাতেই টুম্পা মাইতি নিজের বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা জানিয়েছেন বহু বছর ধরে তাঁরা ওই এজেন্টের মাধ্যমে নিয়মিত সঞ্চয় করতেন। তাঁরা এভাবে প্রতারণার শিকার হবেন তা কখনওই বুঝতে পারেননি। এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়।





