ক্যান্টিনের রান্নাঘরে কর্মরত দেবী নন্দন বলেন, “দুই-তিন দিন ধরে গ্যাসের সমস্যা চলছে। পুরসভার পক্ষ থেকে ছোট সিলিন্ডার দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে আজ রান্না হয়েছে, তবে শনিবার কী হবে তা বলা মুশকিল। আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্যাস না পাওয়া গেলে বাধ্য হয়ে বন্ধ করে দিতে হবে”।
advertisement
মিড ডে মিলে খাবার গ্রহণকারী এক ব্যক্তি বলেন, “ক্যান্টিন বন্ধ থাকলে ক্ষুধার্ত থাকতে হবে, না শুকনো খাবার, মুড়ি বা চিঁড়ে খেতে হবে”। বাঁশবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান তাপস মুখোপাধ্যায় বলেছেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের ভুল মনোভাবের কারণে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। তুঘলকি নির্দেশে ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। গ্যাস না পাওয়া গেলে ক্যান্টিন বন্ধ করা ছাড়া উপায় নেই। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে গ্যাস পাওয়া যায় এবং মানুষ যাতে কোনো সমস্যায় না পড়ে। ক্যান্টিনগুলো খোলা রাখার চেষ্টা চলছে। গ্যাস ছাড়া আর কোনো খাদ্যের অভাব নেই”।
প্রসঙ্গত, এলপিজির দাম বাড়ায় বিপাকে অটোচালকরা, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে পড়তে হচ্ছে জ্বালানির জন্য, ফলে পরিষেবা ব্যাহত জেলা জুড়ে। হঠাৎ এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও জোগান সংকটের জেরে সমস্যায় পড়েছেন অটোচালকরাও। তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও। জেলার বিভিন্ন এলাকায় অটো পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় গন্তব্যে পৌঁছতে নাকাল হতে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের।
আরও পড়ুন: রাজ্যের এবার আসছে বৃষ্টির দিন! রাজ্যের বেশ কিছু জেলায় টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস, বিরাট আপডেট
বরানগর, ব্যারাকপুর, বারাসাত, মধ্যমগ্রাম-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় একই চিত্র ধরা পড়েছে। জেলায় আনুমানিক প্রায় ৩০ হাজার অটো চলাচল করে। কিন্তু অটোর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাস রিফিলিং কাউন্টার রয়েছে মাত্র হাতেগোনা প্রায় কুড়িটির মতো। ফলে বিপুল সংখ্যক অটোর জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় সমস্যায় পড়ছেন চালকেরা। অনেক ক্ষেত্রেই গ্যাস ভরার জন্য দীর্ঘ সময় পরিষেবা বন্ধ রেখে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে অটোচালকদের। এদিন জেলার বামুনগাছি, বরানগর-সহ বিভিন্ন গ্যাস পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বহু অটোচালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস সংগ্রহের অপেক্ষা করেছেন। আচমকা এলপিজির দাম বাড়ানোয় চালকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগও বেড়েছে।
