শনিবার রাত প্রায় বারোটা নাগাদ সাইকেলে করেই দেশবন্ধু পাড়ার নিজের বাড়িতে নববধূকে নিয়ে ফেরেন অমিত। আত্মীয়-পরিজনের কেউ একজন সেই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতেই মুহূর্তে নজর কাড়ে ভিডিওটি। সহজ-সরল সিদ্ধান্ত, অথচ শক্তিশালী বার্তা—এই কারণেই বহু মানুষ প্রশংসায় ভরিয়েছেন নবদম্পতিকে।
আরও পড়ুনArijit Singh: রাজনীতিতে যোগ দিচ্ছেন অরিজিৎ সিং? জোর গুঞ্জনের মধ্যেই বোমা ফাটালেন গায়ক নিজেই
advertisement
পেশায় অ্যাকাউন্টস ও টিউশন মাস্টার অমিত মোদক বরাবরই সাদাসিধে জীবনযাপনে বিশ্বাসী। ছোটবেলা থেকেই সাইকেল তার নিত্যসঙ্গী—বলতে গেলে জীবনেরই অংশ। তবে এই পছন্দের জন্য সমাজের তথাকথিত ‘সো কল’ মানসিকতার আঘাতও কম পাননি তিনি। দামি গাড়িতে চেপে অনেক পরিচিত মানুষ পাশ কাটিয়ে চলে গিয়েছেন—এমন অভিজ্ঞতাও আছে। তবু নিজের বিশ্বাস থেকে সরে আসেননি অমিত।
তাঁর যুক্তি স্পষ্ট—শিলিগুড়িতে ক্রমেই বাড়ছে গ্লোবাল ওয়ার্মিং, সেই বাস্তবতায় সাইকেলই শ্রেষ্ঠ বিকল্প। শরীর ভাল থাকে, পরিবেশও রক্ষা পায়। তাই সাইকেলকে প্রমোট করাই তার লক্ষ্য। সেই বিশ্বাস থেকেই বিয়ের আগেই পরিবারকে জানিয়ে দিয়েছিলেন—বিয়ে হলে সাইকেলেই বউকে বাড়ি আনবেন। শনিবার রাতে সেই লক্ষ্যই পূরণ করলেন তিনি।
আরও পড়ুনVishal Dadlani: কোনও মন্ত্রীকে দিয়ে ফোন করালে কাজ হবে না! কড়া বার্তা সঙ্গীত পরিচালক বিশাল দাদলানি
অমিতের কথায়, “যতই উঁচুতে ওঠা হোক না কেন, পা মাটিতেই রাখা উচিত।” নতুন জীবনকেও তিনি সাইকেলের সঙ্গেই তুলনা করেন—কখন ব্রেক দিতে হবে, কখন গতি বাড়াতে হবে, জীবনও ঠিক তেমনই। প্রিয় জিনিসের সঙ্গে জীবনের সবচেয়ে বড় অধ্যায় শুরু করতে পেরে তিনি খুশি।
মাদারিহাট থেকে আসা নববধূ মনিকা মোদকও স্বামীর সিদ্ধান্তে সম্পূর্ণ সহমত। তার কথায়, “স্বামীর খুশিতেই আমার খুশি। এমন উদ্দেশ্য নিয়ে জীবন শুরু করতে পেরে ভালো লাগছে।”
আরও এক চমকপ্রদ তথ্য—আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এই বিয়ে ছিল অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ। মাত্র ৪৫ মিনিটের কথাবার্তায় একে অপরকে পছন্দ, আর সাইকেলে করে বউকে বাড়ি আনার আবেদনে মনিকার সম্মতিই অমিতের কাছে বড় প্রাপ্তি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পাশাপাশি সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে পেরেছেন—এই ভাবনাতেই তাদের আনন্দ দ্বিগুণ। সব মিলিয়ে, সাইকেলের প্যাডেলে ভর করেই ভালোবাসা, বিশ্বাস আর বার্তার এক অনন্য গল্প লিখে ফেললেন শিলিগুড়ির এই নবদম্পতি।
ঋত্বিক ভট্টাচার্য





