প্রায় ৩০ বছরের বেশি সময় অর্চনা গোলদার সাগরেই ছিলেন। বাংলাদেশের প্রথম প্যারা মেডিক্যাল চিকিৎসক। ৪ বছর আগে গঙ্গাসাগর মেলাতেই হ্যাম রেডিও তাঁর সন্ধান পেয়েছিল। হ্যাম রেডিওর সদস্যরা বাংলাদেশে যোগাযোগ করে তাঁর পোস্ট মাস্টার ভাইয়ের সঙ্গে। কিন্তু অর্চনা আর ফিরতে চাননি। মন্দিরে পুজো পাঠ করেই চলছিল তাঁর দিন।

আরও পড়ুনঃ প্রকৃতি ধ্বংস করে মন্দারমনিতে অবৈধ হোটেল, রিসর্ট! বারংবার অভিযোগের পর পুলিশের অ্যাকশন, নির্মাণ কর্মী, ঠিকাদার-সহ ৩২ জন গ্রেফতার

advertisement

অর্চনা মণ্ডল খুলনায় প্যারা মেডিক্যাল কর্মী ছিলেন। অসুস্থ, প্রতিবন্ধী মেয়েকে বাড়িতে রেখে নিজে চিকিৎসা করেছিলেন তিনি। সুস্থ হওয়ার বদলে মৃত্যু হয় মেয়ের। পরিবারের গঞ্জনার মুখে পড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি।

View More

আরও পড়ুনঃ রাতের অন্ধকারে দাঁতালের তাণ্ডব! লণ্ডভণ্ড করল বাড়ির শস্য, বন দফতরের তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পেল সহায়তা

advertisement

অর্চনাকে বাড়িতে ফেরানোর কথা থাকলেও অশান্ত বাংলাদেশে তাঁকে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে বিলম্ব হতে থাকে। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, এই দ্বীপে তিনি মরবেন। অর্চনার  স্বামী লঙ্কেশ্বর গোলদার জানিয়েছিলেন, স্ত্রীকে ফেরাতে চান তিনি। তাঁদের গ্রাম সোনাডাঙা, উপ-জেলা ডুমুরিয়ার। তিনি হাসপাতালে চাকরি করতেন, মেয়ে ছাড়াও তাঁর এক ছেলে রয়েছে। অর্চনা দক্ষিণেশ্বরে বা কুম্ভমেলায় পরিচিত মুখ বলেই জানা গিয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কেও তিনি সজাগ ছিলেন।

advertisement

আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন

হ্যাম রেডিওর কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে তাঁকে ফেরানোর জন্য। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে চলা সেই চেষ্টা বিফলে যায়। বিভিন্ন আইনি জটেই আটকে যায় সব। তবে আর বাংলাদেশে ফেরা হল না তাঁর। সাগরমেলা শেষে মৃত্যু হল তাঁর। তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী সাগরেই মৃত্যু হল। হ্যাম রেডিও ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা এই ঘটনায় খুবই মর্মাহত।

advertisement