জাদুকর এ.টি.এন আসলে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর ২ ব্লকের বাগমারি গ্রামের আশুতোষ নন্দী। ছোটবেলায় মঞ্চের সামনে বসে জাদু দেখতেন তিনি। অন্যরা যেখানে শুধু আনন্দ পেত, সেখানে তিনি খুঁজতেন রহস্যের উত্তর। কীভাবে একটি বস্তু হাওয়া হয়ে যায় বা আবার ফিরে আসে—এই প্রশ্নই তাঁকে ভাবিয়ে তুলত। সেই কৌতূহল থেকেই শুরু হয় জাদুর প্রতি ভালবাসা। বিজ্ঞান মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে যুক্তি ও বিশ্লেষণে তিনি ছিলেন পারদর্শী। তাই জাদুকেও বিজ্ঞানের চোখে দেখেছেন তিনি।
advertisement
জাদুর সঠিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য শিল্পনগরী হলদিয়ায় পাড়ি দেন আশুতোষ। সেখানে অভিজ্ঞ জাদুকরদের কাছ থেকে শেখেন নানা কৌশল। দীর্ঘ অনুশীলন ও অধ্যবসায়ের পর ১৯৯৮ সাল থেকে মঞ্চে নিয়মিত জাদু দেখানো শুরু করেন। প্রথম দিকে ছোট অনুষ্ঠান হলেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। একের পর এক অনুষ্ঠানে তাঁর জাদু দর্শকদের মুগ্ধ করতে শুরু করে। মুহূর্তে করতালিতে ভরে ওঠে মঞ্চ। তবে তিনি সবসময় বলেন, জাদু মানেই অলৌকিক কিছু নয়। এর পিছনে থাকে পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং বিজ্ঞানের নানা সূত্র।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
মাঝেমধ্যেই জাদুর ঝুলি নিয়ে স্থানীয় স্কুলে পৌঁছে যান জাদুকর এ.টি.এন। খুদে পড়ুয়াদের সামনে আনন্দের সঙ্গে জাদু দেখান। প্রতিটি খেলার পরে বুঝিয়ে দেন এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। শিশুদের কৌতূহল বাড়ানোই এই জাদুকরের লক্ষ্য। অনেক সময় অভিভাবকদের অনুরোধে সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই জাদুর প্রশিক্ষণ দেন তিনি। ছোটদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং বিজ্ঞানমনস্ক করে তুলতে চান জাদুকর এ.টি.এন। তাঁর বিশ্বাস, জাদু শুধু বিনোদন নয়, বিজ্ঞানের খেলা। তাই আজও নিষ্ঠা ও ভালবাসা নিয়ে জাদুর আলো ছড়িয়ে চলেছেন তিনি।





