পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র তমলুকের রাধারানী বাজার। শাড়ি, ছোটদের পোশাক থেকে শুরু করে জুতোর দোকান, চৈত্র মাসের এই সময়টায় তিল ধারণের জায়গা থাকে না এখানে। পূর্ব মেদিনীপুর ছাড়াও হাওড়া, হুগলি ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতা বিক্রেতারা আসেন। কিন্তু এবার নির্বাচনের নির্ঘণ্ট আর রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারের ব্যস্ততা যেন বাজারের চিরাচরিত ছন্দে তালভঙ্গ করেছে। ব্যবসায়ীদের মতে, ভোটের আবহে মানুষের মনঃসংযোগ এখন রাজনীতির দিকে। ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তার পিছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করছে। ভোটের সময় বিভিন্ন এলাকায় কড়া পুলিশি নজরদারি এবং যান চলাচলের বিধিনিষেধ থাকে। ফলে দূর-দূরান্তের ক্রেতারা বাজারে আসতে কুণ্ঠাবোধ করছেন।
advertisement
নির্বাচনের সময় বাজারে নগদ প্রবাহের ওপর কড়াকড়ি থাকে। মধ্যবিত্ত মানুষ এই সময় বড়সড় কেনাকাটা এড়িয়ে চলতেই পছন্দ করেন। রাজনৈতিক প্রচার ও মিটিং-মিছিলের কারণে সাধারণ মানুষের কেনাকাটার ফুরসত কমছে। রাধারানী বাজারের ছোট-বড় সব মাপের বিক্রেতারাই এখন আশঙ্কায় দিন গুনছেন। জনৈক কাপড় ব্যবসায়ীর কথায়, “চৈত্র সেলের লাভের মুখ দেখেই আমরা সারা বছরের অনেক ঘাটতি মেটাই। কিন্তু এবার ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই ক্রেতাদের মধ্যে সেই চনমনে ভাবটা দেখা যাচ্ছে না। মাল তুলেছি প্রচুর, কিন্তু যদি খদ্দেরই না আসে, তবে সব লোকসান।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
প্রকাশ হয়েছে নির্বাচনের নির্ঘন্ট। রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। রাজ্যজুড়ে বিধানসভা নির্বাচন। আর এই বিধানসভা নির্বাচনে ধাক্কা খেতে পারে চৈত্র সেলের বাজার। বাঙালি ক্রেতা-বিক্রেতারা সারা বছর চৈত্র মাসের অপেক্ষা করে থাকে। বাঙালি ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছে চৈত্র সেল কেবল বেচাকেনা নয়, এক ধরণের সামাজিক উৎসবও বটে। কিন্তু রাজনৈতিক ডামাডোলে সেই উৎসবে ভাটা পড়ার আশঙ্কা প্রবল। শেষ পর্যন্ত ভোটের ময়দান ছাপিয়ে বাজারের ব্যাগ হাতে ক্রেতারা ভিড় জমান কি না, এখন সেটাই দেখার। রাধামনি বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা চৈত্র সেলের বাজার ধাক্কা খাবে।





