শুরু হয় এক নিঃশব্দ শিক্ষা আন্দোলন। কোনও আর্থিক লেনদেন নেই। নেই ফি বা বেতনের হিসাব। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়ানো শুরু করেন তিনি। প্রথমে নিজের ঘরেই বসাতেন পড়াশোনা। ধীরে ধীরে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ২০১২ সালে তিনি গড়ে তোলেন ‘গীতাঞ্জলি আশ্রম বিদ্যাপীঠ’। এলাকায় এই নাম এখন পরিচিত। সকাল ও বিকেলে চলে পাঠদান। প্রথম শ্রেণী থেকে শুরু করে তৃতীয়, পঞ্চম, সপ্তম এমনকি অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরাও এখানে পড়ে। সকলকে তিনি নিজের সন্তানের মতই দেখেন। শাসন আছে। আবার আদরও কম নয়।
advertisement
আরও পড়ুন: দামোদরের চরে বিশালাকার রহস্যময় লোহার গোলক! মর্টার শেল না অন্যকিছু! তুঙ্গে জল্পনা
শুধু পড়াশোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় তাঁর ভালবাসা। ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীদের মুখে হাসি ফোটাতে মাঝে মাঝেই চকলেট দেন। কখনও আবার নিজের হাতে তেলে ভাজা বানিয়ে খাওয়ান। পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষাও দেন। কীভাবে মানুষ হতে হয়, সেটাই শেখাতে চান তিনি। এলাকার অভিভাবকরাও তাঁর উপর ভরসা রাখেন। অনেক দরিদ্র পরিবারের শিশুরা এখানে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। যাদের বাড়িতে আলাদা করে পড়ানোর সামর্থ্য নেই, তাদের কাছে হরেন বাবু ভরসার নাম।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
কিন্তু অবসরের পর হঠাৎ কেন এই উদ্যোগ? হরেন বাবুর কথায় উঠে আসে নেপথ্যের কাহিনী, একদিন এলাকার কয়েকজন শিশু তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিল, এখানে কি কোনও স্কুল হবে না? সেই প্রশ্নই নাড়া দিয়েছিল তাঁকে। তাদের আগ্রহ আর কৌতূহলই তাঁর পথচলার অনুপ্রেরণা। আজ বয়স বেড়েছে। শরীর আর আগের মত সায় দেয় না। তবু আগ্রহে ভাটা পড়েনি। এখনও প্রতিদিন নিজের ঘরের মধ্যেই বিনা পয়সায় পড়িয়ে চলেছেন এলাকার ছেলেমেয়েদের। বয়স তাঁকে দমাতে পারেনি। শিক্ষা আর মানবসেবাই তাঁর জীবনের আসল পরিচয়।





