‘অন্নপূর্ণার সংসার’ নামে প্রকল্প চালু করেছে তারা। ভবঘুরেদের হাতে তুলে দিচ্ছে খাবার। পূর্ব মেদিনীপুরের মেচোগ্রাম এলাকায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে চোখে পড়ে একদল তরুণ-তরুণী তুলে দিচ্ছে এই খাবার। তারা কারও কাছে রাজনীতি বা প্রতিপত্তির পরিচয় নিয়ে আসেননি, এসেছেন সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে। ‘আমরা ছাত্রদল’ নামের এই সদস্যরা মূলত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। পকেটের সামান্য হাতখরচ বাঁচিয়েই তাঁরা সংগ্রহ করেন তহবিলের টাকা। আর সেই টাকায় রান্না করে পৌঁছে দেন মেচোগ্রাম ওভার ব্রিজের নিচে আশ্রয় নেওয়া অসহায় মানুষগুলোর কাছে।
advertisement
কী এই ‘অন্নপূর্ণার সংসার, নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে মাতৃস্নেহ আর তৃপ্তির স্বাদ। এই প্রকল্পের আওতায় ভবঘুরে মানুষদের পাতে পড়ছে গরম ভাত, ডাল, ভাজা, তরকারি এবং মাঝেমধ্যে মাছ। উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য, কেবল একদিনের লোক দেখান খাবার দেওয়া নয়, বরং আগামী এক বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে এই পরিষেবা বজায় রাখা। সংগঠনের অন্যতম সদস্য পার্থপ্রতিম পতি এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে বলেন, “মায়েরা সকাল থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেন। মায়েদের সেই নিরন্তর লড়াই এবং ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই আমরা এই প্রকল্পের নাম দিয়েছি ‘অন্নপূর্ণার সংসার’। আমাদের লক্ষ্য একটাই— এই মানুষগুলোকে অন্তত একদিনও যেন অভুক্ত হয়ে শুতে না হয়।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
যে বয়সে অধিকাংশ যুবক স্মার্টফোন বা আড্ডায় মগ্ন থাকে, সেই বয়সে সমাজের প্রান্তিক স্তরের মানুষদের কথা ভাবছে এই ছাত্রদল। এ যেন এক তারুণ্যের অন্য জয়গান। মেচোগ্রাম সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারাও ছাত্রদের এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। ছাত্রদের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে দিল যে, সদিচ্ছা থাকলে সামান্য হাত খরচের টাকা দিয়েও বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
তাঁদের এই প্রচেষ্টায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে এগিয়ে আসছেন স্থানীয় অনেক শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষও। পরিশেষে, তারুণ্যের এই জয়যাত্রায় ‘অন্নপূর্ণার সংসার’ কেবল একটি প্রকল্প নয়, বরং সমাজের কাছে একটি জোরাল বার্তা। মনুষ্যত্ব এখনও ফুরিয়ে যায়নি। আর ঠিক সেটাই করে দেখাচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়ার এই ছাত্রছাত্রীরা।





