এই থিমে প্রবেশ করলেই যেন দর্শনার্থীরা ফিরে যাবেন নিজের ছোটবেলায়। সেই দিনগুলো, যখন বিকেল মানেই ছিল খোলা মাঠ, মাছ ধরা, ঘুড়ি ওড়ানো, দৌড়ঝাঁপ আর নির্ভেজাল হাসি। আজ চারপাশে ক্রমশ বাড়িঘর আর ফ্ল্যাটের ভিড়ে সেই শৈশবটাই যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে, এই যন্ত্রণাকেই শিল্পের ভাষায় তুলে ধরতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা। ক্লাবের সদস্য রাজীব দেবনাথ বলেন, “আমাদের থিম পুরোটাই হয়েছে একটা পুকুরের উপর তাই এই থিম কমপ্লিট করতে অনেকটা সময় লেগেছে। তবে থিমের মাধ্যমে আমরা যে বার্তা দিতে চাইছি আশা করছি এটা শহরের মানুষ উপভোগ করবেন।”
advertisement
থিমের বাইরের অংশে চোখে পড়বে বর্তমান সময়ের বাস্তব ছবি মোবাইলে মুখ গুঁজে থাকা শিশুরা, ভার্চুয়াল গেমে বন্দি শৈশব। আর থিমের ভিতরে প্রবেশ করলেই বদলে যাবে দৃশ্যপট। সেখানে দেখা যাবে সেই হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর ছবি, খোলা মাঠে খেলাধুলা, বই হাতে শেখার আনন্দ, প্রকৃতির সঙ্গে বেড়ে ওঠার গল্প। যেন এক মিউজিয়ামে প্রবেশ করবেন দর্শনার্থীরা, যেখানে সাজিয়ে রাখা থাকবে শৈশবের একাধিক স্মৃতিচিহ্ন।এই থিমের অন্যতম আকর্ষণ ‘জ্ঞান বৃক্ষ’। সম্পূর্ণ বই দিয়ে তৈরি একটি বিশাল বটগাছ, যা জ্ঞানের প্রতীক। উদ্যোক্তাদের কথায়, আজকের দিনে ছোট শিশুর হাতে যেখানে সহজেই তুলে দেওয়া হচ্ছে মোবাইল ফোন, সেখানে একসময় মায়েরা হাতে তুলে দিতেন বই। সেই বার্তাই ছড়িয়ে দিতেই এই জ্ঞান বৃক্ষ। এই থিমে সরস্বতী দেবীকে আনা হয়েছে মায়ের রূপে, যিনি সন্তানকে বই পড়াচ্ছেন, শেখাচ্ছেন, আলোকিত করছেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
শিক্ষক তথা শিল্পী রঙ্গজীব রায় বলেন, “কালনা শহরের বুকে সিমেন্ট,বালি, ডালপালা দিয়ে কাজ এই প্রথম আমরাই করছি। পুরোটাই পরিবেশবান্ধব এবং প্রকৃতিকে রেখে করেছি। সবটাই এখানে তৈরি হয়েছে। অন্য জয়গা থেকে এনে বসানো হয়েছে সেরকম কোনও ব্যাপার নেই।” প্রায় সাড়ে ১৮ লক্ষ টাকা বাজেটে তৈরি এই থিমে ব্যবহার করা হয়েছে চটের বস্তা, সিমেন্ট, বালি, গাছের ডাল-সহ নানা উপকরণ। প্রতিটি উপাদানেই ফুটে উঠেছে বাস্তব আর অনুভূতির মেলবন্ধন। বর্তমানে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে। আগামী ২৬ তারিখ পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে এই থিম।
বারুইপাড়া দক্ষিণ বারোয়ারী ক্লাবের সদস্যদের স্পষ্ট বক্তব্য, এবছর তাঁরা শুধু একটি পুজো নয়, সমাজকে একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন। কংক্রিটের জঙ্গলে যেন আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শৈশব হারিয়ে না ফেলি। খেলার মাঠ, প্রকৃতি আর বই, এই তিনের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে প্রকৃত শৈশবের সুখ। এই পুজো তাই শুধু দেখার নয়, অনুভব করার, একটি হারিয়ে যাওয়া শৈশবকে ফিরে পাওয়ার আবেগঘন আহ্বান।





