এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। শুধু তাই নয়, অন্যান্য বুথ থেকেও নাম বাদ পড়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। ৩১ নম্বর বুথ থেকে ৫৭ জন, ৩২ নম্বর বুথ থেকে ৬৮ জন, ৩৩ নম্বর বুথ থেকে ৪৪ জন, ৩৪ নম্বর বুথ থেকে ৬১ জন, ৩০ নম্বর বুথ থেকে ৫১ জন, ৪২ নম্বর বুথ থেকে ২৫ জন এবং ৪১ নম্বর বুথ থেকে ১৮৬ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করেই পরিকল্পিতভাবে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে।
advertisement
রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শেখ জিয়াউল হকের নামও বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “আমার পরিবারে বাবা, মা, ভাই, স্ত্রী সবার নাম রয়েছে, অথচ আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা পরিকল্পিত চক্রান্ত। যেসব বুথে আগে তৃণমূল ভাল ফল করেছে, সেখান থেকেই ভোটারদের বাদ দেওয়া হচ্ছে।” তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই অভিযোগ তুলেছেন পুবার গ্রামের বাসিন্দা সুহাবুদ্দিন শেখ। তাঁর দাবি, “আমার মেয়ের নাম রয়েছে, কিন্তু ছেলে ও স্ত্রীর নাম ডিলিট করা হয়েছে। এটা কীভাবে সম্ভব? এটা রাজনৈতিকভাবে চক্রান্ত করে করা হচ্ছে।” গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তি শেখ আব্দুল বারিকের অভিযোগ আরও সরাসরি। তাঁর কথায়, “সংখ্যালঘু বলে আমাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি চক্রান্ত করে একটি সম্প্রদায়কে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে, যাতে তারা নির্বাচনে সুবিধা পায়।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন আউশগ্রামের বাসিন্দা লেখক রাধামাধব মণ্ডলও। তিনি বলেন, “মানুষের জীবন ও জীবিকা নিয়ে এভাবে টানাপোড়েন তৈরি করার অধিকার কোনও রাষ্ট্রের নেই। যদি এভাবে চক্রান্ত করে তালিকা প্রকাশ করা হয়, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে উঠবে।” এদিকে আউশগ্রাম ২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি শেখ আব্দুল লালন জানান, “ভোটের আগে মানুষকে হয়রান করতেই এই নতুন চাল। তবে আউশগ্রাম তৃণমূলের দুর্গ, এতে কোনও প্রভাব পড়বে না। যাদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের পাশে আমরা আছি এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সব মিলিয়ে রামনগরের পুবার গ্রামে ভোটার তালিকা নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন এই অভিযোগের কী জবাব দেয় এবং শেষ পর্যন্ত এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।
