সরস্বতী পুজো অর্থাৎ বাঙালির অঘোষিত ভ্যালেন্টাইনস ডে। আর বাঙালির ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র পরের দিন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্লস ও বয়েজ হোস্টেলগুলির মধ্যে রয়েছে ‘তত্ত্ব’ আদান-প্রদানের একটি রীতি। আর এই রীতির হাত ধরেই হোস্টেল প্রাঙ্গণগুলিতে একটি মন ছুঁয়ে যায় আরেকটি মন। মনের কোণে লুকিয়ে থাকা একান্ত ইচ্ছের প্রকাশ ঘটে। হোস্টেলের আবাসিকদের কাছে এ যেন কখনও পারস্পরিক বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও গাঢ় করে তোলা, আবার কখনও পছন্দের মানুষের প্রতি প্রেমের স্বীকারোক্তি।
advertisement
আরও পড়ুন: ভারী যান চলাচলের নয়া আপডেট! মোহনপুর ব্রিজের লোড ক্যাপাসিটি বেড়ে হল ৩৫ টন, খুশি ব্যবসায়ীরা
তাঁকে উপহার দেওয়ার উপলক্ষ্য। কারণ বছরের অন্যান্য দিন ছেলেরা মেয়েদের হোস্টেলে আর মেয়েরা ছেলেদের হোস্টেলে যেতে পারেন না। কিন্তু এই দিন একে অপরের হোস্টেলে প্রবেশ অবাধ। তাই এদিন চিরাচরিত জিন্স-টপ বা সালোয়ার-কুর্তা ছেড়ে মেয়েদের পরনে রঙিন শাড়ি, এলোমেলো চুল কিংবা খোপায় ফুল। ছেলেরাই বা কম কিসের? তারাও পাঞ্জাবি-পায়জামা পড়ে দিব্যি আপ্যায়নে ব্যস্ত। এদিন প্রথম ছেলেদের হোস্টেল থেকে ফল, মিষ্টি, চিপস, চকলেট সহ নানান জিনিসে ভরা তত্ত্বের ডালি পৌঁছে যায় ছাত্রীদের মীরাবাঈ, নিবেদিতা, প্রীতিলতা, সরোজিনী, গার্গী হোস্টেলে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
আর তারপর নিজেদের সাজানো তথ্য নিয়ে মেয়েদের দল পৌঁছে যায় অরবিন্দ, চিত্তরঞ্জন, নেতাজি, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্র কিংবা আইনস্টাইন হোস্টেলে। সঙ্গে থাকে শঙ্খ, ঢাক, বাজনা। তবে এত সবকিছুর মাঝেও তত্ত্ব সাজানো আর আলপনা আঁকা এই দুই কাজে ছাত্রছাত্রীরা এক হোস্টেল আর এক হোস্টেলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। অলিখিত এই প্রতিযোগিতার মাঝেও যেন দৃঢ় হয় বন্ধুত্বের বন্ধন, আরও দৃঢ় হয় প্রেমের বন্ধনও। তাই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি নয়, সরস্বতী পুজোর পরের দিনই পালিত হয় অঘোষিত ভ্যালেন্টাইনস ডে।





