মালাগাঁথা, আলপনা আঁকা, গল্পপাঠের আসর, সেলাই প্রতিযোগিতা কিংবা মহিলাদের আড্ডার আসর, সব মিলিয়ে এখানে যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে বাংলার হারিয়ে যেতে বসা নস্টালজিক ঐতিহ্য। তবে এই আখড়ার মূল আকর্ষণ ‘প্রকৃতিযাপন উৎসব’। ফাল্গুন মাসের পঞ্চম দোল উপলক্ষে তিন দিন ধরে এখানে অনুষ্ঠিত হয় পরমা প্রকৃতির আরাধনা। একটি গাছকে ‘মায়াপ্রকৃতি’র প্রতীক হিসেবে পুজো করা হয়। প্রকৃতিকে কেন্দ্র করেই বসে বীজ রক্ষার আসর।
advertisement
যেখানে দেশীয় বীজ সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা ও উদ্যোগ নেওয়া হয়। উৎসবের সময় আশ্রম চত্বরে বসে বাউল ও ফকিরি গানের আসর। সুরের মূর্ছনায় মুখর হয়ে ওঠে গোটা পরিবেশ। গাছপুজোর পর সমবেত মানুষদের জন্য থাকে অন্নছত্রের আয়োজন। বহু মানুষ পাত পেড়ে বসে ভোজন সারেন এই গ্রামীণ ভাবনার আশ্রমে। এই আখড়ার প্রতিষ্ঠাতা লেখক রাধামাধব মণ্ডল জানান, “গ্রামের যেসব ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে, সেগুলিকে ধরে রাখতেই আমাদের এই সম্মিলিত উদ্যোগ।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
প্রকৃতির পাঠশালায় তিন দিনের মায়াপ্রকৃতির উৎসবে বহু মানুষ যোগ দেন।”দেশীয় বীজ সংরক্ষণের কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে এই আখড়া। কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে এখানে সংরক্ষণ করা হচ্ছে ১০৮ রকমের দেশীয় ধানের বীজ। আউশগ্রাম এলাকা এমনিতেই দেশীয় ধানের বৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত, সেই ঐতিহ্যকে রক্ষা করতেই চলছে এই উদ্যোগ। এই আশ্রমে পরমা প্রকৃতিই আরাধ্য। তাই ঋতুবৈচিত্র্যের মধ্য দিয়েই প্রকৃতির পূজা হয় এখানে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সহাবস্থানের এই বার্তাই ছড়িয়ে দিতে চায় গোপালপুর–উল্লাসপুরের ‘সহজ আখড়া’।





