গুরুতর অবস্থায় কার্তিককে উদ্ধার করে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল। জানা যায়, এদিন স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান ছিল। সেই অনুষ্ঠানে বর্তমান পড়ুয়াদের পাশাপাশি বহু প্রাক্তনীও উপস্থিত ছিলেন। কার্তিক রাজবংশী দু’বছর আগে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে স্কুল ছেড়ে দেয়। ক্রীড়া অনুষ্ঠানের দিন সেও স্কুলে আসে। অভিযোগ, স্কুলের মাঠে ছাত্রদের খেলাধুলোর সময় কয়েকজন ছাত্র ব্যাগ রাখার জন্য নির্দিষ্ট একটি ঘরে ঢোকে। সেখানে ভাঙচুর চালানো হয় এবং একটি ব্ল্যাকবোর্ড ভেঙে যায়। এই ঘটনাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্কুলের এক পার্শ্বশিক্ষক।অভিযোগ, সেই শিক্ষক কার্তিক রাজবংশীকে দোষী মনে করে বেধড়ক মারধর শুরু করেন।
advertisement
আরও পড়ুন: চোখের পলকে সব শেষ, পুড়ে খাক সাজানো সংসার! দাউদাউ করে জ্বলে গেল বাড়ি, পথে বসল পরিবার
কানের পাশে ঘুষি মারায় কার্তিক মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরবর্তীতে স্কুলের অন্যান্য ছাত্ররা কার্তিককে উদ্ধার করে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকেরা তার মাথার সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেন। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছন কার্তিকের বাবা-মা। কার্তিকের বাবা তারক রাজবংশী বলেন,“আমরা খুব গরিব মানুষ। অভাবের কারণেই ছেলেটাকে আর পড়াতে পারিনি। কিন্তু তাই বলে একজন শিক্ষক এভাবে আমার ছেলেকে মারবে? প্রায় প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা চাই অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোরতম শাস্তি হোক।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
কার্তিকের মা ঝুমা রাজবংশী বলেন, “আমার ছেলের যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে স্কুল কি তার দায়িত্ব নেবে? আমরা অবশ্যই পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাবো।” এদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে নিন্দায় সরব শিক্ষক মহলের একাংশও। অন্যদিকে, স্কুলের প্রধান শিক্ষক তথা কাটোয়া পুরসভার চেয়ারম্যান কমলাকান্ত চক্রবর্তী জানান, ঘটনার সময় তিনি স্কুলে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি বলেন, “আমি তখন অন্য একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে গিয়েছিলাম। শুনেছি ব্ল্যাকবোর্ড ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”






