সারা দেশে যখন বসন্তোৎসবের জোয়ার, বর্ধমানের চিত্রটা তখন একেবারেই উল্টো। এর নেপথ্যে রয়েছে বর্ধমান রাজবাড়ির কয়েক শতাব্দী প্রাচীন এক প্রথা। রাজ আমলের নিয়ম অনুযায়ী, দোল পূর্ণিমার দিনটি ছিল একান্তই দেব-আরাধনার।
advertisement
এদিন সবার আগে বর্ধমান রাজবাড়ির কুলদেবতা লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ-এর মন্দিরে বিগ্রহের পায়ে আবির নিবেদন করা হয়। রাজপরিবারের সদস্য এবং প্রজাদের কাছে ভগবানের চরণে রং অর্পণ করাই ছিল দিনটির প্রধান মাহাত্ম্য। রাজ আমলে হোলিকে ঘিরে হত নানা উৎসব, আচার-অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠান শেষ হতে হতে দুপুর গড়িয়ে যেত। তাই সেদিন আর রং খেলা হত না।
আবার অন্য একটি মতে, এদিন যেহেতু রাজ পরিবারের দেবতাদের পায়ে রং নিবেদন করা হত, সেহেতু দোলযাত্রার পরের দিন রাজপরিবারের সদস্যরা দোল উৎসবে মেতে উঠতেন। প্রজারাও রাজবাড়ির সেই প্রথাকে অনুসরণ করে পরের দিন দোল উৎসবে মেতে উঠতেন। রাজপরিবারের পুরোহিত সুমন কিশোর মিশ্র বলেন, রাজা আমল থেকে এই নিয়ম চলে আসছে। দোলপূর্ণিমায় শুধু দেবতার পায়ে আবির দেওয়া হয়। আজ শুধু ঠাকুরের দোল, পরের দিন মানুষের দোল। দীর্ঘ দিন ধরে এই প্রথা চলে আসছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
প্রসঙ্গত, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিলীন হয়েছে রাজতন্ত্র, আগের মতো সেই জৌলুসও নেই। কিন্ত আধুনিকতার জোয়ারে গা না ভাসিয়ে আজও রাজ আমলের সেই পুরনো ঐতিহ্য বজায় রেখে চলেছে বর্ধমানবাসী। তাই মঙ্গলবার যখন গোটা দেশ রঙের নেশায় মত্ত, তখন বর্ধমান কেবলই প্রতীক্ষায়। আগামীকাল সূর্যোদয়ের সঙ্গেই শহর জুড়ে শুরু হবে রঙের উৎসব। লাল, নীল, সবুজ আবিরে রাঙিয়ে উঠবে রাজবাড়ি থেকে কার্জন গেট।





