ছুটির মরশুম হোক কিংবা সপ্তাহান্ত—সমুদ্র উপভোগ করতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক ভিড় জমান দিঘা, মন্দারমনি-সহ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার একাধিক সমুদ্র সৈকতে। সমুদ্র স্নানের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চার রাইড। তবে এই রাইডগুলির নিরাপত্তা নিয়ে অতীতে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে। কয়েক বছর আগে মন্দারমনিতে প্যারাগ্লাইডিং করার সময় এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর কিছুদিনের জন্য প্যারাগ্লাইডিং পরিষেবা বন্ধও রাখা হয়েছিল। সমুদ্রের মাঝামাঝি এলাকা থেকে আবার এই রাইড চালু করা হলেও অভিযোগ ছিল, অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ম না মেনে এলোমেলোভাবে এই রাইড পরিচালনা করা হচ্ছিল। সেই সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ প্রশাসনের কাছেও জমা পড়ে।
advertisement
আরও পড়ুন: বাবার লড়াই সার্থক! মালদহের হকার কন্যা মিষ্টির জ্যাভলিনে কুপোকাত জাতীয় মঞ্চ, লক্ষ্য এখন অলিম্পিক
ফলে জেলা জুড়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার এইসব অ্যাডভেঞ্চার রাইডের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম মেনে দিল প্রশাসন। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং রাইড পরিচালনায় শৃঙ্খলা আনতে উদ্যোগী হয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এখন থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গা থেকেই এই অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস পরিচালিত হবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দিঘায় তিনটি এবং মন্দারমনিতে দু’টি মিলিয়ে পাঁচটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে প্যারাগ্লাইডিং, স্পিডবোট ও অন্যান্য রাইড পরিচালনা করা যাবে। এছাড়াও সমস্ত সংস্থাকে রোটেশন পদ্ধতিতে এই রাইড পরিচালনা করতে হবে, যাতে প্রত্যেক সংস্থা সমান সুযোগ পায় এবং পর্যটকদেরও নিরাপদ পরিবেশে পরিষেবা দেওয়া যায়।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এই প্রসঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) মানস কুমার মণ্ডল জানান, “পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যাতে তারা সুষ্ঠুভাবে সমুদ্র উপভোগ করতে পারেন সেই লক্ষ্যেই অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস পরিচালনাকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। বৈঠকে তাদের বলা হয়েছে সরকারি নিয়ম মেনে চালাতে এবং নির্দিষ্ট পাঁচটি জায়গা থেকেই এই রাইড পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” এর পাশাপাশি সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার, পর্যটকদের লাইফ জ্যাকেট প্রদান, নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে রাইড পরিচালনা এবং পর্যটকদের সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে নিয়মিত নজরদারিও চালান হবে বলে জানান হয়েছে।





