জলপাইগুড়ি জেলার নকশালবাড়ির মেচী নদী ঘেঁষা গাঁঠু বস্তি, কুমারসিং জোত, কেটুগাবুর জোত-সহ একাধিক এলাকায় ধান চাষের ফাঁকা জমিতে খাবারের খোঁজে বসছে টিয়া, ময়না, বক, ঘুঘু-সহ নানান প্রজাতির পাখি। এমনকি জলা জমিতে দেখা যায় হর্নবিল, কালোমাথা কাস্তেচরা-সহ বহু পরিযায়ী পাখিদেরও। আর তাতেই নজর চোরাশিকারিদের। পাখি ধরতে দিনের আলোতেই পাতা হচ্ছে ফাঁদ। যার জেরে পাখি মৃত্যুর মতো ঘটনা সামনে আসছে। যা ভীষণভাবে চিন্তায় ফেলেছে বন্যপ্রেমী সংগঠনগুলিকে।
advertisement
সম্প্রতি নকশালবাড়ির একাধিক স্থান থেকে পাখি শিকারের জাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে নকশালবাড়িতে পাখি শিকার বন্ধ থাকার পর ফের পুনরায় তা শুরু হয়েছে। বিহার এবং পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল থেকেই চোরাশিকারিরা রাজ্যে এই ধরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে অনুমান পুলিশের। চোরাশিকারিদের রুখতে বনদফতরের পদক্ষেপের দাবি জানান পরিবেশপ্রেমীরা।
বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্য স্থানীয় বাসিন্দা অভিজিৎ সরকার এ বিষয়ে জানাচ্ছেন, ‘নকশালবাড়ি জুড়ে জলাভূমি অঞ্চলে নানান পরিযায়ী পাখির আনাগোনা রয়েছে। আমরা নিজেই চোরাশিকারিদের দৌরাত্ম্য রুখতে উদ্যোগ নিয়েছি। সকলে সতর্ক থাকলে এই পাখি শিকার রোখা সম্ভব।
অপরদিকে, কার্শিয়াং ডিভিশনের এনডিএফও বাগডোগরা রাহুল দেব মুখার্জি জানান, ‘বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আমরা সচেতন রয়েছি। নকশালবাড়িতে খুবই প্রকৃতি সচেতন মানুষের বসবাস। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় বাইরে থেকে এসে এ ধরণের শিকারের চেষ্টা চলছে। অন্যান্য বন্যপ্রাণীর মতো পাখি শিকারের কড়া আইন রয়েছে। পাখি শিকারিদের রেয়াত করা হবে না’।
