বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু, আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সুপ্রিম-নির্দেশের এক সপ্তাহ পরেও বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে কোনও হেলদোল করেনি রাজ্য সরকার। এই পরিস্থিতিতে এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ডিএ মামলাকারীরা আইনি নোটিস পাঠিয়েছিলেন পশ্চিমঙ্গের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং অর্থসচিব প্রভাতকুমার মিশ্রকে। সেই আইনি নোটিসে বলা হয়েছিল, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের জারি করা ডিএ মামলার নির্দেশকে ইচ্ছাকৃত এবং সজ্ঞানে লঙ্ঘন করা হয়েছে। যা প্রকৃতপক্ষে আদালত অবমাননার সমান।
advertisement
মামলার খবর সামনে আসার পরে সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘‘এই রাজ্য সরকার ডিএ দেবে না। তার বিরুদ্ধে কর্মচারীরা আদালতে গিয়ে লড়াই করছে। তাদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। ভারতের জনতা পার্টির সরকার আর কয়েক মাস পরেই গঠন হতে চলেছে। সেই সরকার এসে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার ব্যবস্থা আমাদের রাজ্য সরকারই কর্মচারীদের জন্য করবে।’’
গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ যত দ্রুত সম্ভব দিয়ে দুতে হবে রাজ্য সরকারি কর্মীদের৷ বাকি ৭৫ শতাংশ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তৈরি করতে হবে কমিটি৷ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে গঠন করা হবে একটি কমিটি।
রায়ে বলা হয়েছিল, সেই কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে কত ডিএ দিতে হবে। ৬ মার্চের আগে কমিটি গঠন করতে হবে। একইসঙ্গে আদালত জানিয়েছে, সুখবর অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্যও। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, “যাঁরা অবসর পেয়েছেন এখনও পর্যন্ত তাঁরাও এই সুবিধা পাবেন।”
শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, “বকেয়া ডিএ দিতেই হবে। ১৫ মের মধ্যে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দিতে হবে। ৬ মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র প্রথম ইনস্টলমেন্ট দিতে হবে। ৩১ মার্চ মধ্যে কমিটির আলোচনা সাপেক্ষে দ্বিতীয় ইনস্টলমেন্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সেইমতো মে মাসের মধ্যে বকেয়া DA মেটানো নিয়ে রিপোর্ট দেবে কমিটি।’’
