মৃতা ছাত্রীর পরিবার জানিয়েছে, শুক্রবার কলেজে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। বর্ধমান স্টেশনে টিকিট পরীক্ষক ধরলে তিনি টিকিট দেখাতে পারেননি। বাবা মাকে ফোন করে বিষয়টি জানান ওই ছাত্রী। এরপর বাড়ি ফিরে পরিবারের অন্যদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে আত্মঘাতী হন।
advertisement
মৃত কলেজ ছাত্রী জয়শ্রী সরকার৷
শুক্রবার বিকালে ওই কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে মেমারি থানার পুলিশ। আজ শুক্রবার কলেজে জয়শ্রীর পরীক্ষা ছিল। সকালে তিনি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য রসুলপুর থেকে ট্রেনে চেপে বর্ধমান যান। ট্রেন থেকে নামতেই প্লাটফর্মে টিকিট পরীক্ষককে টিকিট দেখতে চান৷ টিকিট দেখা না করায় ওই ছাত্রীকে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, কলেজের পরীক্ষার কথা জানালেও তাঁকে স্টেশনেই বসিয়ে রাখা হয়। পরে তাঁর কাছে ফাইন নেওয়া হয়। কিন্তু সময় পেরিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষা দিতে পারেননি তিনি।
এর পর দুপুরে বাড়ি ফিরে আসেন ওই ছাত্রী। সেই সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। জয়শ্রীর মা রিঙ্কু সরকার বিএলও। তিনি এসআইআর-এর কাজে বিডিও অফিসে ছিলেন। বাবা বাইরের কাজ থেকে ফিরে এসে মেয়েকে নিজের ঘরে ওড়নায় ফাঁস দিয়ে ঝুলতে দেখেন। এরপর তিনি চিৎকার করে উঠলে আশপাশের বাসিন্দারা এসে উপস্থিত হন। মেমারি থানায় বিষয়টি জানানো হয়। মেমারি থানার পুলিশ এসে ওই ছাত্রীর সংজ্ঞাহীন দেহ উদ্ধার করে স্হানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি স্বরাজ ঘোষ বলেন, ওই টিকিট পরীক্ষক চরম অমানবিক ব্যবহার করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। বিস্তারিত খোঁজ নিচ্ছি। প্রয়োজনে আমরা রেলের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবো। যদিও এ বিষয়ে রেলের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি৷
