মঙ্গলবার বারাসতে একটি বিধায়ক তহবিলের টাকায় তৈরি নতুন একটি বাতিস্তম্ভের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বক্তব্য রাখার সময় বার বারই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন চিরঞ্জিৎ৷ তিন বার বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পরেও যে টিকিট না পাওয়ার আশঙ্কা তাঁর মনে উঁকি মারছে, তাও আড়াল করেননি তারকা বিধায়ক৷ তিনি বলেন, ‘আমরা প্রচুর কাজ করেছি৷ সেই কাজগুলো জেনে নিয়ে ভোট দেবেন৷ যদি আমি না ফিরি তাহলেও যেন আপনাদের জন্য আমার পকেট নিঃস্ব করে দিয়ে যেতে পারি আপনাদের জন্য৷ এটাই আমার ইচ্ছে৷ আর যদি নেত্রী মনে করেন যে আমাকে থাকতে হবে, আমার দায়িত্ব বাকি আছে, তাহলে সেটা পরে দেখা যাবে৷’
advertisement
একই সঙ্গে চিরঞ্জিৎ দাবি করেছেন, ‘এখন সিনেমার জন্য আরও বেশি করে সময় দিচ্ছেন তিনি৷ বিধায়ক হিসেবে তাঁকে বারাসতের মানুষ কাছে পান না বলে বার বারই অভিযোগ করেছেন তাঁর সমালোচকরা৷ এ দিন অবশ্য চিরঞ্জিৎ পাল্টা দাবি করেছেন, বিধায়ক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে গত ১৫ বছরে তিনি অভিনয় পেশাকেও অনেকটাই উপেক্ষা করেছেন ৷ বর্তমানে তাঁর কাছে বেশ কয়েকটি ছবিতে কাজের প্রস্তাব আছে বলেও দাবি করেন চিরঞ্জিৎ৷ অভিনেতা বিধায়ক বলেন, গত ১৫ বছরে কিন্তু আমি ওদিকটা (সিনেমায় অভিনয়) অবহেলা করেছি৷ এই ১৫ বছরে আমি আরও বেশ কিছু হিট ছবি দিতে পারতাম৷ তার প্রভাবও পড়েছে ইন্ড্রাস্ট্রিতে৷’
সমালোচকদের জবাব দিতে গিয়েও গলা ধরে আসে বারাসতের বিধায়কের৷ চিরঞ্জিৎ বলেন, ‘যাঁরা বলে আমি এখানে কম আসি, আমি যদি সপ্তাহে দু দিন করেও আসি তাহলে গত ১৫ বছরে বারাসতে ১৫০০ বার এসেছি৷ এই করে করে এটা আমার পাড়া হয়ে গিয়েছে৷ আপনারা আমার আত্মীয় হয়ে গিয়েছেন৷ আমি যেটা করতে পারি সেটাই করেছি৷ আমি অতো স্লোগান দিতে পারি না, চিৎকার করতে পারি না৷ কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে যেটুকু করতে পারি সৎ ভাবে সেটাই করেছি৷ যে টাকা সরকার বরাদ্দ করেছে সেটা প্রয়োজন অনুযায়ী একটা টাকা না নিয়ে আমি ভাগ করে দিয়েছি৷ এতে আমার কোনও কৃতিত্ব নেই৷ আমার কৃতিত্ব আমি আপনাদের বন্ধু হয়ে উঠতে পেরেছি৷ যে বন্ধু নিজের আখেড় গোছায় না৷ তাই যে কদিন আছি, আমার কাছে জমে থাকা বরাদ্দ হওয়া টাকা আমি কাউন্সিলরদের মাধ্যমে খরচ করে ফেলতে চাই বারাসতের উন্নয়নের জন্য৷’
