ঠিক তেমনই দেশপ্রিয় পার্কে ‘বঙ্গভূষণ’ সম্মানে ভূষিত হলেন বীরভূমের রামপুরহাটের বাসিন্দা শ্যামচাঁদ বাগদি। তিনি দীর্ঘ প্রায় ২৬ বছর ধরে বাগদি সমাজের ইতিহাস, বিবর্তন ও সামাজিক রূপান্তর নিয়ে গবেষণার করছেন। বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক শ্যামচাঁদ বাগদি-কে ‘বঙ্গভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করা হয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে দেশপ্রিয় পার্ক-এর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনে ছিল তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
advertisement
প্রসঙ্গত, শ্যামচাঁদ বাগদি বীরভূম জেলার রামপুরহাট পুরসভার লোটাস প্রেস সংলগ্ন সিএমসিএইচ অফিস এলাকার বাসিন্দা। রাঙা মাটির জেলা বীরভূম থেকেই তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বাগদি সমাজের ইতিহাস ও সামাজিক বিবর্তন নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই শ্যামচাঁদ বাগদির গবেষণার সূচনা আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধানের মধ্যে দিয়ে। ১৪০৬ বঙ্গাব্দে রামপুরহাট থেকে প্রকাশিত ‘পদাতিক’ সাহিত্য পত্রিকায় “বাগদি জাতির খোঁজ খবর” শীর্ষক দীর্ঘ প্রবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর গবেষণা পথ সুস্পষ্ট রূপ পায়।
আরও পড়ুন : অভাবের আঁধার পেরিয়ে উদ্ভাসিত পটচিত্র! কুপির ক্ষীণ আলোয় পড়ে প্রত্যন্ত গ্রামের প্রথম স্নাতক হরিশচন্দ্র
এরপর তিনি ঐতিহাসিক দলিল, ক্ষেত্রসমীক্ষা ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বাগদি সম্প্রদায়ের অতীত ও বর্তমানকে নথিবদ্ধ করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। আঞ্চলিক ইতিহাসচর্চাও তাঁর কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাগদি বিষয়ক গবেষণা দুটি পৃথক গ্রন্থে পূর্ণতা অর্জন করে “বাগদি ইতিহাস ও স্থান পরিবর্তন” এবং “বাগদি বিবর্তন ও উন্নয়ন”। প্রথম গ্রন্থে বাগদি সম্প্রদায়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এবং ঐতিহাসিক স্থানান্তরের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় গ্রন্থে সামাজিক রূপান্তর, অর্থনৈতিক সংগ্রাম, শিক্ষাগত অগ্রগতি ও আত্মমর্যাদাবোধের প্রশ্ন যুক্তিনিষ্ঠভাবে পর্যালোচিত হয়েছে। তাঁর সংগৃহীত তথ্য ও বিশ্লেষণের সহায়তায় ইতিমধ্যে দুইজন গবেষক বাগদি সংক্রান্ত গবেষণামূলক বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। তাঁরা বর্তমানে একজন কলেজের অধ্যাপক এবং অন্যজন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।