বৈদ্যনাথপুর গ্রামের এক অতি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে সমাপ্তি। একাদশ শ্রেণির এই ছাত্রীর পরিবার আর্থিক অনটনের কারণে গত ডিসেম্বর মাসে তার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছিল। কিন্তু ১৭ বছর বয়স সমাপ্তি এই অকাল পরিণয় মেনে নিতে পারেনি। সে পড়াশোনা করে স্বনির্ভর হতে চেয়েছিল। উপায় না দেখে সরাসরি বিডিওকে ফোন করে নিজের বিয়ের কথা জানায় সে। প্রশাসনের তৎপরতায় সেই বিয়ে আটকে যায়।
advertisement
বাল্যবিবাহের হারের নিরিখে বীরভূম জেলা প্রথম সারিতে থাকলেও, সমাপ্তির এই নজিরবিহীন সাহসিকতায় মুগ্ধ জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি জেলাশাসক ধবল জৈন স্বয়ং দুবরাজপুরে এসে সমাপ্তিকে সংবর্ধনা দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার গৃহশিক্ষকের সমস্ত খরচ বহন করার দায়িত্বও নেওয়া হয়েছে। জেলাশাসকের কথায়, ‘মানুষ সমাজের বিরুদ্ধে লড়তে পারে, কিন্তু নিজের পরিবারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজের লক্ষ্য স্থির রাখা অনেক বেশি কঠিন। সমাপ্তি সেই সাহস দেখিয়েছে।’
সংবর্ধনা সভায় সমাপ্তি জানিয়েছিল, একটি কম্পিউটার থাকলে তার অনলাইন ক্লাসের সুবিধা হত। সেই আর্জি পৌঁছায় মুখ্যমন্ত্রীর কানে। তাঁরই নির্দেশে সোমবার জেলাশাসক সমাপ্তির হাতে কম্পিউটারটি তুলে দেন। উপহার পেয়ে উচ্ছ্বসিত সমাপ্তি জানায়, ‘এই কম্পিউটার আমার ভবিষ্যতের পড়াশোনায় অনেক কাজে লাগবে। আমি বাল্যবিবাহ রুখতে চেয়েছিলাম যাতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি। প্রশাসনের এই সাহায্য আমাকে নতুন আশার আলো দেখাল।’ বীরভূমের এই সাহসী কন্যার লড়াই এখন জেলার অন্য ছাত্রীদের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।





