বর্ধমান ও গাঙপুর স্টেশনের মাঝে বর্ধমান শহরের কালনা গেটের ঘটনা। লেভেল ক্রসিং বন্ধ থাকাকালীন রেল লাইন পারাপার মানে এক রকম চিত্রগুপ্তের খাতায় নাম লেখানো। সোজা যমরাজের কাছে পৌঁছে যাওয়া। বছরভর দুর্ঘটনা। তাই চিত্রগুপ্তকে নিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এসেছিলেন যমরাজ। তাঁদের সঙ্গে তর্কে জড়ালেন বর্ধমানের বাসিন্দা নবীন চন্দ্র দাস।
হাওড়ার ডিআরএম বিশাল কাপুরের তত্ত্বাবধানে হাওড়া ডিভিশন কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন সচেতনতার প্রচার চালাচ্ছে। রেলের আধিকারিকরাই চিত্রগুপ্ত ও যমরাজ সেজে ঝুঁকি নিয়ে লাইন পারাপার করা বাসিন্দাদের সচেতন করছেন। সেই জন্যই বর্ধমানের কালনা গেটে পৌঁছে গিয়েছিলেন চিত্রগুপ্ত এবং যমরাজ।
advertisement
বন্ধ রেলগেটের তলা দিয়ে সাইকেল নিয়ে সেখানে পৌঁছে যান নবীনচন্দ্র। তাঁর বক্তব্য, মানুষকে সচেতন করছেন ভাল কথা। কিন্তু বিকল্প যে পথ রয়েছে তার অবস্থা কি আপনারা দেখেছেন? কালনা গেটের পাশেই রয়েছে রেল লাইনের তলা দিয়ে যাতায়াতের টানেল। সংস্কারের অভাবে জল আবর্জনা জমে রয়েছে সেখানে। বাসিন্দা সেই পথ ব্যবহার করতে পারছেন না। সেই পথ প্রশস্ত হলে মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হত না।
নবীন চন্দ্র দাস বলেন, আজ চল্লিশ বছর ধরে শুনছি এখানে ওভার ব্রিজ হবে। কবে হবে তার তো কোনও ঠিক ঠিকানা নেই। এই অভিযোগ শুনে অপ্রস্তুতে পড়েন যমরাজ ও চিত্রগুপ্ত দুজনেই। তাঁদের মান রাখতে বন্ধ রেললাইন টপকানোর অভিযোগে নবীনচন্দ্র দাসকে আটক করে রেল পুলিশ। পরে অবশ্য তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন- সামান্য একটু জমি, তারই জন্যই দাদাকে কুপিয়ে মারল ভাই! ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী থাকল মুর্শিদাবাদ
অন্যান্য বাসিন্দারা বলেন, মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে তা অবশ্যই ভালো কাজ। কিন্তু লোক দেখানো একদিন তা করলে হবে না। ধারাবাহিকভাবে সে কাজ করতে হবে। তাছাড়া এই রেলগেট দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকে। তাই মানুষের জন্য বিকল্প পথের কথাও ভাবা দরকার।
