নবকুমার শীল ১৯৯৯ সাল থেকে কবিতা লিখছেন। তখন তিনি নবম শ্রেণির ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি কবিতার প্রতি টান ধীরে ধীরে নেশায় পরিণত হয়। জীবিকার তাগিদে টোটো চালান শুরু করলেও সাহিত্যচর্চা থামাননি। ফাঁক পেলেই টোটোর আসনে বসেই লিখে ফেলেন নতুন কবিতা। পরিবারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি সাহিত্যকে সঙ্গী করেই এগিয়ে চলেছেন তিনি।
advertisement
ইতিমধ্যেই তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘রাতের গজল’ ও ‘রামধনুর সাতখানা রং’ পাঠকমহলে সাড়া ফেলেছে। এছাড়াও সাতটি যৌথ সঙ্কলনে তাঁর লেখা স্থান পেয়েছে। নবকুমারবাবুর কথায়, “মানুষ সাহিত্যচর্চা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। প্রতিদিন নানা মানুষের সঙ্গে দেখা হয়। যদি তাদের বইমুখী করতে পারি, সেটাই হবে আমার সার্থকতা।” সেই ভাবনা থেকেই তাঁর এই অভিনব উদ্যোগ।
এই সাহিত্যযাত্রায় পাশে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সাহিত্য পৃষ্ঠপোষক জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মতে, একজন টোটো চালক যখন কবিতা লেখেন এবং চলন্ত গাড়িকেই সাহিত্য মঞ্চে পরিণত করেন, তা নিঃসন্দেহে অনন্য দৃষ্টান্ত। ইতিমধ্যেই দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এই ‘কবিতার গাড়ি’ দেখতে ও কবিতার আড্ডায় অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। বিষ্ণুপুরের বুকে তাই নবকুমার শীলের টোটো এখন শুধু যানবাহন নয়, এক চলমান সাহিত্য আন্দোলনের প্রতীক।