রবিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ কালো মেঘে অন্ধকার হয়ে যায় চারিদিক। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় তুমুল ঝড়বৃষ্টি, বজ্রপাত। একেবারে লন্ডভন্ড হয়ে যায় বিষ্ণুপুর থানার বিভিন্ন প্রান্ত। হঠাৎ ঝড়বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বিষ্ণুপুরের ভরা গ্রামের সবজি বাজারের টিনের শেডের নীচে আশ্রয় নেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীরা। তুমুল ঝড়ের জেরে ওই শেড ভেঙে যায়। চাপা পড়েন আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা।
advertisement
আরও পড়ুনঃ WBCS পরীক্ষায় সাফল্যের টিপস! পরীক্ষার্থীদের কী কী করা উচিত, পরামর্শ দিলেন জেলাশাসক
ঝড় থামলে স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি ছুটে যান। একে একে ৪-৫ জন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। তড়িঘড়ি তাঁদের প্রথমে রাধানগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার পর তাঁদের বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখান থেকে অ্যাম্বুল্যান্স করে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আনতে গেলে দ্বারিকা সংলগ্ন এলাকায় গাড়ি আটকে যায়। দেখা যায়, রাস্তার বিশাল একটি গাছ পড়ে আছে। পুনরায় বিকল্প রাস্তা দিয়ে প্রায় ৪-৫ কিলোমিটার ঘুরে বিষ্ণুপুর হাসপাতালে পৌঁছয় অ্যাম্বুল্যান্স।
সেখানে সকলের চিকিৎসা হলেও তাপস পাল নামের এক ব্যক্তির অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। তড়িঘড়ি তাঁকে বাঁকুড়া হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে রাস্তাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অন্যদিকে বিষ্ণুপুর শহরে তুমুল ঝড়ে ভেঙে পড়ে একাধিক গাছ, ভেঙে যায় একাধিক বসতবাড়ি। বিষ্ণুপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাউরিপাড়ায় এক গৃহস্থের বাড়ির উপর ভেঙে পড়ে একটি বিশাল গাছ। সেই সময় ঘরের মধ্যেই ছিলেন বাড়ির ৬ সদস্য। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন তারা। অচৈতন্য হয়ে পড়েন গৃহকর্ত্রী সন্ধ্যা বাউরী। রাতেই ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যান বিষ্ণুপুর শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি, খতিয়ে দেখেন ক্ষয়ক্ষতি।
ঝড়ের দাপট থেকে রক্ষা পায়নি বিষ্ণুপুর হাসপাতালও। ভেঙে পড়ে শেড, ঠান্ডা পানীয় জলের মেশিন। কালবৈশাখীর তাণ্ডবে দক্ষিণ পূর্ব রেলের আদ্রা-খড়গপুর শাখায় রামসাগর ও বিষ্ণুপুর স্টেশনের মাঝে দাঁড়িয়ে পড়েছিল পুরুলিয়া-হাওড়া রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস। ডাউন লাইনে সমস্যা দেখা দেয়।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছিল, ঝড়ে ওভারহেড তার ছিঁড়ে পড়ায় ভেঙে পড়ে রূপসী বাংলা ট্রেনের প্যান্ট্রোগ্রাফ। প্রায় ২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে ছিল এই ট্রেন। যুদ্ধকালীন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতের পর পরে ট্রেন আবার গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেয়। সব মিলিয়ে, বছরের প্রথম কালবৈশাখী ঝড়ের দাপটে রীতিমতো লন্ডভন্ড ‘মন্দির নগরী’ বিষ্ণুপুর।
