আহত, অসুস্থ বা অত্যাচারিত পথকুকুরদের উদ্ধার করে এনে চিকিৎসা ও সেবা দিয়ে নতুন জীবন দেওয়ার চেষ্টা চলছে এখানে।
বাঁকুড়ার কানকাটা এলাকায় ‘পারপাসফুল প্ল্যানেট ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে গড়ে উঠেছে এই ডগ রেসকিউ সেন্টার। বর্তমানে এখানে প্রায় ৫০টি পথকুকুর আশ্রয় পেয়েছে, পাশাপাশি রয়েছে কিছু মিক্সড ব্রিড কুকুর এবং উদ্ধার করা কয়েকটি বিড়ালছানাও। এখানে আহত পশুদের চিকিৎসার জন্য রয়েছে অপারেশনের ব্যবস্থা এবং তাদের জন্য আলাদা রান্নাঘরও রয়েছে। মোট সাতজন কর্মী দিনরাত পরিশ্রম করে এই প্রাণীগুলোর দেখভাল করছেন। অত্যন্ত নিষ্ঠা ও যত্নের সঙ্গে কাজ করছেন যুবক জয়জিৎ মান, যিনি এই রেসকিউ সেন্টারের অন্যতম মুখ।
advertisement
এই কেন্দ্রে শুধু উদ্ধার ও চিকিৎসাই নয়, প্রতি সপ্তাহে একদিন করে বিশেষজ্ঞ পশুচিকিৎসক এসে পশুগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।
পাশাপাশি খুব সুলভ মূল্যে পথকুকুর ও পথবিড়ালদের স্টেরিলাইজেশনও করা হয় প্রতি সপ্তাহে। তবে এই সমস্ত কাজ চালিয়ে যেতে খরচও কম নয়। প্রতিদিন প্রায় ১৫ কেজি চাল এবং ১০ কেজি মাংস লাগে কুকুরদের খাবারের জন্য। তার সঙ্গে রয়েছে মাসে প্রায় ২৫ হাজার টাকার ওষুধের খরচ। কর্মীদের মাসিক বেতন মিলিয়ে পুরো ব্যয় সহজেই লক্ষ টাকার সীমা ছাড়িয়ে যায়।
এই বিপুল খরচের বড় অংশই বহন করছেন কলকাতার বাসিন্দা ইয়াসমিন খান, যিনি নিজের উপার্জনের প্রায় ৯০ শতাংশই এই রেসকিউ সেন্টারের জন্য ব্যয় করেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন কিছু সহৃদয় মানুষ, যারা প্রতি মাসে সামান্য আর্থিক সাহায্য করেন।
এই মানবিক উদ্যোগকে টিকিয়ে রাখতে আরও সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ এখানে আশ্রয় নেওয়া প্রতিটি অসহায় সারমেয়ের চোখে লুকিয়ে রয়েছে নতুন করে বাঁচার আশা।





