অভিযোগ, বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার বাসিন্দা আলিফ ইসলাম নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর আগে ধূপগুড়ি বারঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পাটকিদহ জাকইকোনা এলাকার বাসিন্দা মৌসুমী পারভিনের সামাজিক মাধ্যমে পরিচয় হয়। দীর্ঘদিন কথাবার্তার পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে কাটাতারের তলা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে আলিফ ইসলাম ধূপগুড়িতে আসে। পরে ভেমটিয়া এলাকার বাসিন্দা এজাজুল ইসলামকে নিজের বাবা পরিচয় দিয়ে বারঘরিয়ার পাটকিদহ জাকইকোনা বাসিন্দা মৌসুমী পারভিনকে বিয়ে করে। বিয়ের পর সে শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করতে শুরু করে।
advertisement
আরও পড়ুন – Indian Railways: ব্যস্ত এই রুটের নিত্যযাত্রীদের ফের মাথায় হাত! ভারতীয় রেল বাতিল করছে একের পর এক ট্রেন
এরপর কাজের সূত্রে সে কেরলে চলে যায় এবং দীর্ঘদিন সেখানেই শ্রমিকের কাজ করছিল। মাঝে মাঝে শ্বশুরবাড়িতে আসত, আবার কাজে ফিরে যেত। এক সময় স্ত্রী মৌসুমীকেও কেরল নিয়ে গিয়েছিল, তবে কিছুদিন পর আবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। বর্তমানে তাদের দুটি সন্তান রয়েছে।
প্রায় দু’মাস আগে কেরল পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে বলে সূত্রে খবর । কয়েকদিন আগে গ্রেফতারের বিষয়টি জানতে পারেন তার স্ত্রী মৌসুমী পারভিন। তবে তখনও গ্রামবাসীরা পুরো বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।
সোমবার আচমকাই ধূপগুড়ি থানায় কেরল পুলিশের একটি বিশেষ দল ধৃত যুবককে নিয়ে হাজির হয়। যুবকের হাতে হ্যান্ডকাফ দেখে এলাকাবাসীরা হতবাক হয়ে পড়েন। কারণ এলাকার অনেকেই ওই যুবককে চিনতেন না।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধৃতের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা এজাজুল ইসলামের বাড়িতে পৌঁছন। পুলিশকে জানিয়েছিল ভেমটিয়া এলাকায় তার বাড়ি। ওই বাড়ি থেকেই মৌসুমী পারভিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। সেদিন তদন্তকারী দলে ছিলেন একজন সাব-ইন্সপেক্টর, একজন এএসআই, দুই কনস্টেবল এবং আরও কয়েকজন পুলিশকর্মী।
পুলিশ স্থানীয় গ্রামবাসীদের ডেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এবং বাড়ির বিভিন্ন ঘর তল্লাশি চালায়। গ্রামবাসীরা জানতে চান, কী কারণে ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধূপগুড়ি থানার পুলিশও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি।
ধৃত আলিফ ইসলাম দাবি করেছে, “সে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করত। পরে সেই অ্যাপ ও সিম সে এক বন্ধুকে ব্যবহার করতে দিয়েছিল। ওই বন্ধু পাকিস্তানের কারও সঙ্গে টাকা লেনদেন করেছিল বলেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুজরাত থেকেও আরও চারজন যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তার দাবি। সে এই টাকা লেনদেনের বিষয়ে কোন কিছুই জানত না। “
এদিন পুলিশি উপস্থিতির মধ্যেই পরিবারের সদস্যদের সামনে পড়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে ধৃত যুবক। কোলের দুই সন্তানকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। বর্তমানে পাকিস্তানে টাকা লেনদেনের অভিযোগের পিছনে অন্য কোনও বড় চক্র জড়িত রয়েছে কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। গোটা ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে ধন্দে রয়েছে স্থানীয় মানুষজন।
Rocky Chowdhary
