রবিবারের অভিশপ্ত ভোররাত! ইএম বাইপাসের ধারে নরেন্দ্রপুরের নাজিরাবাদ। বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই দু’টো গোডাউন। প্রশাসন জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৮ জনের দগ্ধ দেহাংশের হদিশ মিলেছে। নরেন্দ্রপুর থানায় ১০ জনের নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের হয়েছে। নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ছে পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দাদের। এখনও নিখোঁজ জেলার ফুলের কাজ করা একাধিক পরিযায়ী শ্রমিক। এই পরিস্থিতিতে কোনওক্রমে প্রাণে বেঁচে ফিরলেন ময়নার বিষ্ণুপদ।
advertisement
সেই ভয়ঙ্কর রাতের প্রতিটা মুহূর্ত চোখের সামনে ভাসছে, আতঙ্কে দিশেহারা বিষ্ণুপদ। চাইলেও ভুলতে পাড়ছেন না সেই অভিশপ্ত রাতের স্মৃতি! ত২আর ভাষায়, ” কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কালো ধোঁয়ায় চারপাশ ঢেকে গেল। শুরু হল শ্বাসকষ্ট। আমার সঙ্গে মোট ১৪-১৫ জন ছিল। কিন্তু আমরা চারজন বেরিয়ে আসতে পারি, বাকিদের খোঁজ জানি না।” রাতেই ওই যুবকের বাড়িতে যান ময়না ব্লকের বিডিও জগন্নাথ বিশ্বাস-সহ অন্যান্য ব্লক প্রশাসন আধিকারিকেরা।
বিষ্ণুপদ আরও জানান, ” আমরা খাওয়া দাওয়া করে রাত ১টা নাগাদ ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। রাত ৩টা- সাড়ে ৩টে নাগাদ আচমকা চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায়। দেখি গোডাউনের ভিতর আগুন লেগেছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আগুন দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। পুরো গোডাউন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। শুধুমাত্র হাতের কাছে মোবাইল ছিল। সেটা জ্বালিয়েই সিঁড়ি থেকে ঝাঁপ দিয়ে কোনওরকমে বাইরে বেরিয়ে আসি। আমাদের সঙ্গে ১৪-১৫ জন ছিল। আমরা চার-পাঁচ জন বেরিয়ে আসতে পেরেছি। মোবাইল ছাড়া আর কিছুই নিয়ে বেরতে পারিনি।”
প্রায় ১৯ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। পূর্ব কলকাতার আনন্দপুরের নাজিরাবাদের বিশাল দু’টি গুদামের ইতিউতি এখনও ধিকিধিকি জ্বলছে আগুন । গোডাউনে বেশ কিছু জায়গায় এখনও পকেট ফায়ার রয়েছে। চলছে কুলিং প্রসেস। কুলিং প্রসেস শেষ হলে ফরেনসিক পরীক্ষা হবে। ফরেনসিকের তরফে নমুনা সংগ্রহের পরই আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা সম্ভব হবে।
ভস্মীভূত নরেন্দ্রপুরের ডেকরেটর্সের অফিস-গোডাউন। বেরোনোর পথ না পেয়েই পরপর মৃত্যু!গোডাউনের পাশেই ডেকরেটর্সের অফিস। সেই অফিসেই থাকতেন কর্মীরা। প্রচুর দাহ্য থাকলেও নিয়মিত চলত রান্না! কর্মীদের থাকার জায়গায় একটি মাত্র দরজা! আগুন লাগায় দরজা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়! কোনও মতে সেখান থেকে বেরোন কর্মীরা! জ্বলন্ত অফিস থেকে বেরিয়েও শেষরক্ষা হয়নি! পাশের গোডাউনে আগুন জ্বলায় বাড়ে বিপদ! জ্বলন্ত গোডাউন পেরিয়ে বেরোতে পারেননি কর্মীরা। অগ্নিদগ্ধ হয়ে একের পর এক কর্মীর মৃত্যু হয়। ভাঙা কারশেডের নীচে কি আটকে আরও কেউ? চলছে উদ্ধারকাজ।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইএম বাইপাসের ধারে নরেন্দ্রপুরের নাজিরাবাদে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই দু’টো গোডাউন। নিখোঁজের সংখ্যা বেড়েছে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৩ জন নিখোঁজ ছিল। মঙ্গলবার সেই সংখ্যা বেড়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন নিখোঁজ পরিবারের পাশে রয়েছে।





