সারাক্ষণ চার্জার প্লাগে লাগিয়ে রাখেন? জানেন এতে ফোন, বিদ্যুৎ বিল ও নিরাপত্তার উপর কী প্রভাব পড়ে?
তবে সম্প্রতি সুইডেনের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই স্মার্ট চশমা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা মুহূর্ত রেকর্ড করে ফেলছে। শৌচাগার থেকে শোয়ার ঘর—ব্যক্তিগত জীবনের নানা সংবেদনশীল মুহূর্তও রেকর্ড হয়ে যাচ্ছে এবং তার কিছু অংশ ডার্ক ওয়েব পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।
advertisement
মেটার ‘স্মার্ট’ চশমা ঘিরে বিতর্ক, ব্যক্তিগত মুহূর্ত ফাঁসের অভিযোগে শোরগোল! (AI Image)
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটা এআই চশমা পরে কেউ যা কিছু দেখছেন বা করছেন, তার অনেকটাই রেকর্ড হয়ে চশমার মেমরিতে জমা থাকে। অভিযোগ, কেনিয়ার নাইরোবি শহরে অবস্থিত ‘সামা’ নামে একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কিছু কর্মী এই ডেটা হাতিয়ে নিচ্ছেন। হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে বসে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও নাকি দেখা হচ্ছে এবং বাছাই করে তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ডার্ক ওয়েবে।
এখানেই শেষ নয়। চশমা পরে কেউ যদি অনলাইনে কেনাকাটা করেন বা ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত কাজ করেন, সেই তথ্যও রেকর্ড হয়ে থাকতে পারে। চশমার ক্যামেরায় ধরা পড়তে পারে ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড নম্বর, সিভিসি কোড কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক তথ্য।
মেটা অবশ্য দাবি করেছিল, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকবে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর অ্যালগরিদমের নিরাপত্তায় এমন ফাঁক রয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে সাইবার অপরাধীরা ডেটা চুরি করতে পারে। উল্লেখ্য, গত বছরই মেটা প্রায় ৭০ লক্ষের বেশি এআই চশমা বিক্রি করেছে। ফলে বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, এই ধরনের স্মার্ট চশমায় এমন প্রযুক্তি রয়েছে যা কারও দিকে তাকালে তার মুখ শনাক্ত করে সম্ভাব্য নাম, ঠিকানা বা অন্যান্য তথ্য বের করে আনতে পারে। একই সঙ্গে ব্যবহারকারী কোথায় তাকাচ্ছেন, কার সঙ্গে কথা বলছেন বা কী আলোচনা করছেন, সেই তথ্যও রেকর্ড হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এ ধরনের স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করার সময় সতর্ক থাকা জরুরি। প্রয়োজনে ডেটা শেয়ারিং সংক্রান্ত অপশন বন্ধ রাখা এবং গোপনীয়তা সংক্রান্ত সেটিংস ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।
