টাইব্রেকারে ডাচদের সবে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। উৎসব চলছে গ্যালারিতে, ফুটবলাররা আনন্দ করছেন মাঠে। মেসি এবং গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ হঠাৎ ছুটে গেলেন নেদারল্যান্ডস ডাগ আউটর দিকে। কোচ ভ্যান গাল এবং কিছু নেদারল্যান্ডস দলের স্টাফদের সঙ্গে চলল বিতর্ক। পরে জানা গিয়েছে মেসি এবং গোলরক্ষক মার্টিনেজ নাকি খেলার শেষে ছাপার অযোগ্য ভাষায় গালাগালি দিয়েছেন ডাচ কোচকে।
advertisement
আরও পড়ুন - রোনাল্ডো কাঁটার মাঝেই আজ বিশ্বকাপে মরক্কো চ্যালেঞ্জ টপকাতে মরিয়া পর্তুগাল
গা জোয়ারি ফুটবল এবং লং বল খেলার স্ট্র্যাটেজি নেওয়ার কারণেই ডাচ কোচকে নিশানা করেছেন লিও এবং এমিলিয়ানও। ইচ্ছে করে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের ফাউল করছিল ডাচরা। মেসি ভ্যান গালকে বলেন আট বছর আগের স্মৃতি ফিরিয়ে দিলাম। এবার এটা নিয়ে কোচিং জীবন শেষ করুন। একটু চুপ করে থাকতে শিখুন।
সৌদি আরবের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারের পর মার্তিনেজ দোষারোপ করেছেন নিজেকেই। দলকে বাঁচাতে তেমন কিছুই করতে পারেননি। গ্রুপপর্ব পেরিয়ে শেষ ষোলোয় ওঠার পর দায়টা শোধ করতে চেয়েছিলেন আর্জেন্টিনা গোলকিপার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোয় তাই ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে সেই অবিশ্বাস্য সেভটা দেখা গেছে।
আর্জেন্টাইন সমর্থকেরাও হাপ ছেড়ে বেঁচেছেন। এই যে দেশের মানুষের স্বপ্নকে টিকিয়ে রাখলেন যিনি, সৌদি আরবের বিপক্ষে সেই হারের পর তাঁর নাকি রাতে ঘুম হতো না, ভুগেছি অনেক। ঘুমোতে পারিনি। মনোবিদের সঙ্গে এ নিয়ে অনেক কথা বলেছি। সাড়ে ৪ কোটি আর্জেন্টাইন আমার দিকে তাকিয়ে, তাদের আরও ভালো কিছু উপহার দিতে পারতাম।
চোখেমুখে যে আত্মবিশ্বাসের ঝলকানি নিয়ে তিনি প্রতিবার পোস্টের নিচে দাঁড়িয়েছেন, দুটি সেভের পরও চোখমুখ ফেটে বেরিয়ে আসার আবেগের ঢেউকে যেভাবে সংবরণ করেছেন শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত ; যে কেউ বলবেন, এই মানুষটার মন ইস্পাতের মতোই দৃঢ়। মার্টিনেজ বলছেন লড়াই বাকি শেষ দুটো ম্যাচের জন্য।
ক্রোয়েশিয়া যেভাবে ব্রাজিলকে হারিয়েছে তাতে তাদের নিয়ে আর্জেন্টিনার চিন্তা থাকবে নিশ্চয়ই। এমি বলছেন নো টেনশন। কোপা আমেরিকার পর এবার বিশ্বকাপ চাই আর্জেন্টিনার। মেসির হাতে সেটা তুলে দিতে আমি জীবন দিতেও রাজি।
